করোনা পরিস্থিতি: স্বস্তির সঙ্গে শঙ্কাও

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক জন মারা গেছেন। একই সময়ে ২হাজার ১২৪ জনের শরীরে করোনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হয়েছেন ২২ জন। সবশেষ জানুয়ারিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চার জন মারা গিয়েছেন এবং শনাক্ত হয়েছে ৮০৬ জনের। ২০২৩ সালে করোনায় মৃত্যু হয়েছিলো ৩৭ জনের শনাক্ত হয় ৯ হাজার ১৮৯ জন।

জানা যায়, দেশে করোনার নতুন উপধরন জেএন.১ শনাক্ত হয়েছে। নতুন এই উপধরন দেশে প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি করোনা প্রতিরোধী টিকাদান কার্যক্রমও শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জেএন.১  উপধরন শনাক্ত ও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে গত ১৮ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নতুন করে টিকা কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি শীত শেষে গরমে বাড়তে পারে করোনা। ফলে এখন থেকে মানুষকে সচেতন হতে হবে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২০, ২১ ও ২২ সালে যথাক্রমে করোনা আক্রান্ত হয়ে দেশে মৃত্যু হয় ৭ হাজার ৫৫৯, ২০ হাজার ৫১৩ এবং ১ হাজার ৩৬৮ জনের। পরিসংখ্যান জানান দিচ্ছে ২০২৩ সালে করোনায় মারা যান ৩৭ জন যা কোভিড শনাক্ত হওয়ার পর সর্বনিম্ন।

২০২৩ সালে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক কমে স্বস্তি দেখা দেয়। টিকা কার্যক্রমেও শিথিলতা দেখা যায়। কিন্তু বছরের শেষ দিকে এসে নতুন উপধরন জেএন.১ শনাক্ত হয় এবং এরপর থেকে ভারতসহ বিশ্বের ৩৩টা দেশে দ্রুত করোনা বাড়তে থাকে যার প্রভাব পড়তে শুরু করছে বাংলাদেশেও। ধারণা করা হচ্ছে, শীত কমলে করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করবে।

কোভিড বেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিপক্ষে আগের টিকাগুলো পুরোপুরি কার্যকর নয় ফলে কোভিডে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। এটা কেবল বাংলাদেশ নয় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। যদিও এখনও উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। আমাদের কোভিডের মৌসুম কিন্তু আরও ২-৩ মাস পর শুরু হবে ফলে আমাদের এখনি প্রস্তুত হতে হবে। কোভিড এখনও পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়নি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়তে পারে। আমাদের হাত ধোয়া, মাস্ক পরার অভ্যাস করতে হবে, হাসপাতালের সংখ্যা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকা ও নতুন টিকা গ্রহণ না করায় এখন দেশের অধিকাংশ মানুষ করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি হারিয়েছে। আবার ভ্যারিয়েন্ট হওয়ার আগে যখন পরিবর্তন হচ্ছে সেই পরিবর্তনের ফলে আগে যে টিকা কার্যকর ছিল এখন সেটা থাকছে না। ফলে বুস্টার ডোজ সবারই নেওয়া ভালো। এখন যে টিকা দেওয়া হচ্ছে তাতে নতুন ভ্যারিয়েন্টকে যাতে প্রতিরোধ করতে পারে তার উপাদান যুক্ত করা আছে।

 

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, নতুন উপধরন নিয়ে এখনি আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে আমাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। কোভিড এখনও পৃথিবী থেকে পুরোপুরি বিদায় নেয়নি আবার এর সংক্রমণ যেকোনো সময়ে বেড়ে গিয়ে পরিস্থিতি খারাপের একটা শঙ্কা থেকে যাওয়ায় আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।