পুলিশ হেফাজতে ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ ফারুক হোসেনের মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আজ বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানভীর আহমেদ।
আদালত আইনজীবীকে এ বিষয়ে আগামী রবিবার রিট আবেদন করতে পরামর্শ দেয়। আজ আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর পৌনে ১১টার দিকে ফারুকের মৃত্যুর বিষয়ে এ আইনজীবী আদালতকে বলেন, একজন বডি বিল্ডারের বিরুদ্ধে গাজার মামলা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের হেফাজতে তার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুর ১৫ দিনেও মামলা হয়নি (গত মঙ্গলবার মামলা হয়)। এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয় এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আমরা ঘটনার বিচারিক তদন্ত চাই। আদালত এসময় আইনজীবীকে রবিবার রিট আবেদন করতে বলেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের বিষয়টি নজরে রাখার মৌখিক আদেশ দেয় হাইকোর্ট।
আইনজীবী তানভীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্টে বিষয়টি উপস্থাপন করেছি। আদালত রিট আবেদন করতে বলেছেন। তার (ফারুক) স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে আবেদনটি করা হবে।’
গত মঙ্গলবার ফারুকের স্ত্রী ইমা আক্তার বংশাল থানার ওসি মাইনুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক ইমদাদুল হক, আবু সালেহ, মাসুদ রানা ও বুলবুল আহমেদের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতে একটি মামলা করেন। আরজিতে তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ১২ জানুয়ারি ফারুককে বংশাল থানার কায়েতটুলী পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করছে বলে তিনি (ফারুক) ফোনে জানান। ফাঁড়িতে গিয়ে ইমা দেখেন মারধর করে তার স্বামীকে আটকে রাখা হয়েছে। পুলিশ তাকে জানায় তার স্বামী বড় অপরাধী। তাকে ছাড়া যাবে না। তিনি (ইমা) কয়েকজন পুলিশের পা ধরে ফারুককে ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানালেও তারা শুনেনি। পরদিন তাকে জানানো হয় ফারুকের বিরুদ্ধে ১৫০ গ্রাম গাজা উদ্ধারের মামলা দেওয়া হয়েছে। গত ১৫ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ইমাকে জানানো হয় ফারুক মারা গেছেন। তার গলা, বুকে ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান তিনি। আদালত বাদী জবানবন্দি গ্রহণ করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) ঘটনার তদন্ত করে আগামী ২৮ মার্চ প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়।