মাশরাফী বিন মোত্র্তজার বিশ্রামে সিলেট স্ট্রাইকার্সের নতুন অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। তাতে ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে নতুন অধিনায়ক শুরুতেই দেখলেন ব্যাটিং ধস। আর তখনই ধরলেন হাল। দলকে খাঁদের কিনারা থেকে টেনে তুললেন। তাতে শুরুর ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে সিলেটকে এনে দেন ১৪২ রানে লড়াকু সংগ্রহ।
শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত ঢাকার বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার উপক্রম হয়েছিল সিলেটের। মাত্র ১৩ রানের মাথায় প্রথম তিন ব্যাটারকে হারায় স্ট্রাইকার্স। এরপর মাশরাফি বিন মুর্তজার অনুপস্থিতিতে সিলেট নেতৃত্বে আসা মোহাম্মদ মিঠুনের (৫৯) ব্যাটে লড়াই করার পুঁজি পায় সিলেট।
দুর্দান্ত ঢাকার পেসার শরিফুল ইসলামের আগুনে বোলিংয়ে রানের খাতা খোলার আগেই স্ট্রাইকার্স ওপেনার শামসুর রহমান শুভ (০) ফিরেন সাজঘরে। ইনিংসের প্রথম ওভারে পঞ্চম বলে ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নের পথে হাটেন শামসুর।
দুই ওভার পরে এসে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন শরিফুল, দুর্দান্ত দুই ইনসুং ডেলিভারিতে একে একে ফেরান নাজমুল হোসাইন শান্ত (৩) ও জাকির হাসান (০)। অপ্রতিরোধ্য শরিফুলকে সামলাতে হিমশিম খাওয়া সিলেট তাই মাত্র ১৩ রানে টপ অর্ডারে তিন ব্যাটার ফিরতে হয় সাজঘরে।
সিলেটের এই শোচনীয় শুরুটাকে আরও শোচনীয় করতে উঠে পড়ে লাগে দুর্দান্ত ঢাকা। উইকেটের চাহিদা মেটাতে তাই পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ২টি রিভিউ খরচ করে ঢাকা। তাসকিন আহমেদের ইনিংসের পঞ্চম ওভারের পঞ্চম বল পায়ে লাগে মোহাম্মদ মিঠুনের, সেখানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে উইকেট আদায় করে নিতে জোড়ালো আবেদন করে ঢাকা। সেই আবেদন আম্পায়ার সাড়া না দিলে, রিভিউ নেয় ঢাকা। রিভিউতে দেখা যায় যে বলটি ইনসাইডএজ হয়ে মিঠুনের পায়ে আঘাত হানে। ফলে প্রথমবার রিভিউ হারায় ঢাকা। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের তৃতীয় বলে সামিট পাটেলকে দ্রুত সাজঘরে পাঠানোর আশায় আবারও রিভিউ নেয় ঢাকা। সেটা অনায়াসে বাদ যায়।
ঢাকার রিভিউ নষ্ট করে বেঁচে যাওয়া স্ট্রাইকার্স অধিনায়ক মিঠুন এরপর দলকে সামন থেকে নেতৃত্ব দেন। ব্যাট হাতে চোখধাঁধানো সব বাহারী শটে ৩৬ বলে দারুণ এক ফিফটি তুলে নেন মিঠুন। মাশরাফি বিন মুর্তজা জাতীয় সংসদের হুইপ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় স্ট্রাইকার্সের নেতৃত্বের ভার আসে মিঠুনের কাধে। যদিও আগে থেকেই মাশরাফির বিকল্প হিসেবে মিঠুন নির্বাচন করে রেখেছিল স্ট্রাইকার্স মালিক পক্ষ।
ফিফটি করার পথে মিঠুন চতুর্থ উইকেটে সামিট পাটেলের সাথে গড়েন ৫৭ রানের দারুণ এক জুটি। দুর্দান্ত এই জুটিতে শুরু সেই বিপর্যয় কাটিয়ে লড়াই করার পুঁজি দাঁড় করায় সিলেট। দলীয় ৭০ রানে পাটেলকে (৩২) ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন আরাফাত সানি।
এরপর রায়ান বার্ল ফিরেন দ্রুত, তবে উইকেটে অবিচল ছিলেন মিঠুন। ফিফটি করার পাশাপাশি সিলেটকে ১৪২ রানের পুঁজি পাইয়ে দেন মিঠুন।