শুক্রবার সকালে যার মৃত্যুর খব
র সকলকে হতবম্ভ করে দিয়েছে, তিনি পুনম পাণ্ডে। বিনোদন জগৎ থেকে পুনমের অনুরাগীরা— কেউ-ই যেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না এই খবর। মাত্র ৩২ বছরের শেষ পুনমের জীবনে। জরায়ুতে ক্যানাসার কেড়ে নিল পুনমের প্রাণ এমনটাই দাবি করেছেন অভিনেত্রীর সহকারী।
যদিও ধোঁয়াশা রয়েই গেছে একাংশের মধ্যে। তার কারণ, পুনম নিজেই। নিজের ১০ বছরের কর্মজীবনে অসংখ্য বার বিতর্কে জড়িয়েছেন। বার বার বলেছেন ‘‘প্রচারের আলো চাই না।’’ কিন্তু, তার পরেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন যে লোকের নজরে পড়তে বাধ্য হয়েছেন। কখনও নিজের গোসলের ভিডিও প্রকাশ্য এনেছেন, কখনও আবার হাজতবাস করেছেন, কখনও আবার প্রকাশ্যে নগ্ন হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। প্রচারে থাকতে গেলে যা যা করতে হয় করেছেন—নিজেই ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন এক সময়।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরের মেয়ে পুনম। শোনা যাচ্ছে, সেখানেই ছিলেন মৃত্যুর সময়। কানপুরেই শেষকৃত্য হবে তাঁর। মডেলিং দিয়ে শুরু করেন ক্যারিয়ার। বলিউডে অভিষেক হয় ২০১৩ সালে ‘নাশা’ ছবির মাধ্যমে। তেমন ভাবে প্রভাব ফেলতে পারেননি বড় পর্দা। ধীরে ধীরে নীল ছবির জগতে নিজের পরিচিতি বাড়তে থাকে তাঁর।
শেষে প্রাপ্তবয়স্কদের ছবির নায়িকা হয়েই রয়ে গেলেন পুনম। মু্ম্বাইতে বেড়ে ওঠা। সেখানেই মানুষ তবে রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে। ইন্ডাস্ট্রিতে ছিল না পূর্ব পরিচিতি। এক সাক্ষাৎকারে পুনম বলেন, ‘আমি যে ভাবে চার পাশে আলোচিত হয়েছি, সবটাই প্রচার কৌশল। আমি এমন একটা মেয়ে যার কোনও চেনা পরিচিতি ছিল না এই ইন্ডাস্ট্রিতে। তবু লোকে এখন চেনেন। আমার ধারণা আমি সফল হয়েছি ।’
যদিও ওই একই সাক্ষাৎকারে পুনম জানান, তাঁর বাবা-মা-পরিবার তাঁকে নিয়ে সন্তুষ্ট নন। পুনমের কথায়, ‘যে ভাবে নিজের ভাবমূর্তি আমি তুলে ধরেছি সেটা আমার বাবা-মা একেবারে পছন্দ করেন না। আমার আদাপ-কায়দা দেখে তাঁরা বিস্মিত হন, কিন্তু আমার হাতে কিছু নেই। আমি মানুষটাই এমন।’
অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবরে ফিরে ফিরে আসছে তাঁর সাক্ষাৎকারের বিভিন্ন অংশ। যাঁরা পুনমের অনুরাগী, তাঁরা এখনও আশা করেছেন, হয়তো শুক্রবার সকাল থেকে যা ঘটেছে, এটাও অভিনেত্রীর প্রচারে থাকারই কৌশল! তবে, ইতিমধ্যেই পুনমের সহকারী সরাসরি এই খবরে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
আনন্দবাজার