ছায়া বিশ্বযুদ্ধের ছায়ায় বিশ্ব

প্রায় দুই বছর আগে রাশিয়া যেদিন ইউক্রেনে হামলা শুরু করে, এর এক সপ্তাহের মধ্যেই ইয়েমেন ক্ষতবিক্ষত হয় সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায়। সিরিয়ায় আইএস ঘাঁটিতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। কাছাকাছি সময় নতুন করে সংঘাতে জড়ায় সুদানের দুই পক্ষ। এরপর আফ্রিকার আরও কয়েকটি দেশে ক্ষমতার পটপরিবর্তন নিয়ে বাধে সংঘাত। ছোট-বড় এমন শতাধিক যুদ্ধ-সংঘাত যখন চলছে, তখনই গেল বছরের অক্টোবরে আচমকা ইসরায়েলে হামলা করে বসে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। এরপর থেকে ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে গাজায়। তিন মাসের বেশি সময়ে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ উত্তেজনা বাড়িয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে। ইরানপন্থি হুতি-হিজবুল্লাহর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরায়েল। পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। সাগরপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে হুতিদের হামলায়। যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগও সফল হচ্ছে না সেভাবে। ইতিমধ্যে বিশ্ব রাজনীতি-অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুদ্ধের। সমর বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি বছরে আরও বেশ কয়েকটি এলাকা জড়াতে পারে নতুন যুদ্ধে। কোথাও কোথাও বাড়তে পারে পুরনো যুদ্ধের ব্যাপ্তি। ফলে করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ইউক্রেন যুদ্ধের ফাঁদে পড়া পৃথিবীর রাজনীতি-অর্থনীতি আরেকটি ধাক্কা খায়। সেই টলমল অবস্থার মধ্যেই গাজা যুদ্ধ ভূ-রাজনীততে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দ্বিতীয় বিশ্বেযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ কাগজে-কলমে রাশিয়া-ইউক্রেনের হলেও অর্থ, অস্ত্রের সহায়তা দিয়ে পরোক্ষভাবে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও এর নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য ইউরোপীয় দেশগুলো। অন্যদিকে এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার অনেক দেশ সম্পর্ক ঠিক রেখেছে রাশিয়ার সঙ্গে। পশ্চিমা পুঁজিবিরোধী আরেকটি বিকাশমান অর্থনীতির জোট ব্রিকস সম্প্রসারিত হয়েছে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার এই জোটে যোগ দিয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, ইরান ও ইথিওপিয়া। কেবল ভারত ছাড়া গাজা যুদ্ধ নিয়েও জোটের বাকি সদস্য ও পর্যবেক্ষক সদস্য দেশগুলোর অবস্থান প্রায় ইউক্রেন যুদ্ধের মতোই; যাকে মেরুকরণের সম্ভাব্য রেখাকে আরও ফুটিয়ে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, বিশ্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আরেকটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে এ বছরের শেষ দিকে হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ওই নির্বাচনে জো বাইডেনকে হারিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরলে বদলে যেতে পারে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ-সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার ধরন। ন্যাটো জোটকেই হয়তো বিপুল সহায়তা কমিয়ে দেবেন তিনি। আর ব্যক্তিগতভাবে তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মদদ না-ও দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ইউক্রেন যুদ্ধ ‘জিতে’ চীনের সহায়তায় এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে নিজেদের অবস্থান আরও পোক্ত করার সুযোগ হাতছাড়া করবে না রাশিয়া। ইতিমধ্যে অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকাসহ পশ্চিম আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করেছে। দূরত্ব বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে।

এ অবস্থায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ কীভাবে পাল্টে দিয়েছে বিশ্ব পরিস্থিতি? ইউক্রেন যুদ্ধ কি আসলে আরও একটি বিশ্বযুদ্ধের শুরু মাত্র? গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রুশ বাহিনীর হাজার হাজার সৈন্য যখন ঢুকে পড়েছে ইউক্রেনে, বিশাল এক ট্যাংক আর সাঁজোয়া বহর এগিয়ে যাচ্ছে কিয়েভের দিকে, তখন ইউক্রেনের পরাজয় মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর একটি দেশের বিরুদ্ধে এক অসম লড়াইয়ে ইউক্রেন কত দিন টিকতে পারবে, তা নিয়ে অনেকেই ছিলেন সন্দিহান। কিন্তু সেই যুদ্ধ এখনো চলছে। যুদ্ধে উভয় পক্ষেরই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুদ্ধের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলো যে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, তার লক্ষ্য ছিল রাশিয়াকে দুর্বল করা, একঘরে করে ফেলা। শুরুতে রুশ অর্থনীতিতে এর বিরাট ধাক্কা লেগেছিল। পশ্চিমা কোম্পানিগুলো যখন একের পর এক রাশিয়া থেকে ব্যবসা গোটাতে শুরু করে, রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য চালানো কঠিন করে তোলা হয়, তখন রুশ মুদ্রা রুবলের মানে ধস নামে। এ ছাড়া ইউরোপের যেসব দেশ ন্যাটো সামরিক জোটে যোগদানের পক্ষে একটা নিরপেক্ষ অবস্থানে ছিল, সেই সব দেশ একের পর ন্যাটো জোটে যোগ দেবে বলে ঘোষণা দিতে থাকে। বিশ্ব রাজনীতির ভারসাম্য টলে ওঠে। অবশ্য ইউরোপের অনেক দেশ রাশিয়ার বিরুদ্ধে গেলেও বাকি বিশ্ব, বিশেষ করে এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলো কিন্তু সে রকম কট্টর কোনো অবস্থান নেয়নি। উল্টো ওই সব দেশ কম দামে রাশিয়ার তেল কিনে নিজেরা যেমন লাভবান হয়েছে, তেমনি রাশিয়ার ওপর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাজনিত অর্থনৈতিক চাপও কমাতে সহায়তা করেছে। ফলে চাপে পড়লেও রাশিয়া যে শিগগরিই ভেঙে পড়ছে না, সেটা ধরে নেওয়া যায়। আর তা হলে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়ন ধসে পড়ার পর পশ্চিমারা যে চূড়ান্ত বিজয় বলে ঘোষণা করেছিল, সেটি মিথ্যা হয়ে যাবে।

আমেরিকান পাবলিক ইউনিভার্সিটি সিস্টেমের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শিক্ষক সাঈদ ইফতেখার আহমেদ অবশ্য মনে করেন, ইউক্রেন যুদ্ধ পশ্চিমাদের সেই দদ্ভকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ইউরোপে আবার এক রক্তাক্ত যুদ্ধে একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বব্যবস্থা ওলট-পালট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ইফতেখার আহমেদ বলেন, ‘এই যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। পশ্চিমা বিশ্লেষক যেমনটা মনে করতেন, স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর ইতিহাসের পরিসমাপ্তি ঘটবে; অর্থাৎ ইউরোপে বোধ হয় আর কোনো যুদ্ধ বাধবে না। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বিশ্ব জুড়ে উদার গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আধিপত্য কায়েম হবে। কিন্তু তাদের হিসাবে একটা বড় ভুল ছিল।’ তিনি বলেন, রাশিয়ার যে আবার পুনরুত্থান ঘটতে পারে, সেখানে যে একটি পশ্চিমাবিরোধী রুশ জাতীয়তাবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে, এই সমীকরণটা গোনায় ধরা হয়নি। প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়া তার অর্থনীতি এবং সামরিক শক্তিকে সংহত করার পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্ব ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আসলে এক বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। বিশ্ব জুড়ে এখন যে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রাধান্য, এটি বজায় থাকবে কি না, সেটাই কিন্তু এখন পশ্চিমা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। ইফতেখার আহমেদের দাবি, সবকিছুই এখন নির্ভর করছে ইউক্রেন যুদ্ধের ফলাফলের ওপর। অবশ্য কোনো কোনো বিশ্লেষক মনে করছেন, গাজা যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার পর ইউক্রেন যুদ্ধের ফলাফল আসলে বেশিরভাগটাই নির্ভর করছে চীনের ভূমিকার ওপর। 

বহু দশক ধরে পশ্চিমা দেশগুলোর একটা বড় দুশ্চিন্তা ছিল, রাশিয়া এবং চীন যদি তাদের বিরুদ্ধে একজোট হয়, তখন কী হবে? এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সমর বিশেষজ্ঞ ড. সৈয়দ মাহমুদ আলীর ভাষ্য, ইউরেশিয়া- অর্থাৎ ইউরোপ এবং এশিয়া দুই মহাদেশ জুড়ে যে বিশাল ভূখণ্ড, সেখানে যদি কোনো দিন একটি দেশ বা একাধিক দেশের মৈত্রী জোট যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়, সেটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটা বিরাট বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ জন্যই কিন্তু পশ্চিমা শক্তি রাশিয়াকে চীন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছে। তারা চীনকে একঘরে করে চীনবিরোধী সংগ্রামের চেষ্টা করেছে। কিন্তু সেটা হয়নি। পশ্চিমা দেশগুলোকে এখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়া এখন চীনের আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অবশ্য চীন তাদের মধ্যম এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই এ বিষয়ে এই সিদ্ধান্ত নেবে বলে মনে করেন সৈয়দ মাহমুদ আলী। তিনি বলেন, ‘যদি চীন এবং রাশিয়া সত্যি একটি মৈত্রী জোটে পরিণত হয়, যখন ন্যটো কিনা ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিয়ে একটি প্রক্সি ওয়ার বা পরোক্ষ যুদ্ধ চালাচ্ছে, তখন বিশ্ব রাজনীতিতে আমরা একটা বিরাট বিভাজন বা দ্বি-মেরুকরণ দেখব। এর একদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো জোট, অন্যদিকে চীন-রাশিয়া এবং তাদের সহযোগী দেশগুলো।

একই ধারণা মস্কোর ইনস্টিটিউট অব পলিটিক্যাল স্টাডিজের পরিচালক ও পুতিনের সাবেক মুখপাত্র সের্গেই মারকভের। তার ভাষ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ আসলে ন্যাটোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে ন্যাটোর যুদ্ধ। এই হাইব্রিড যুদ্ধ কার্যত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

অবশ্য সাঈদ ইফতেখার আহমেদ এই যুদ্ধকে এখনই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বলতে রাজি নন। তার ভাষ্য, এটা হয়তো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নয়। কিন্তু এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতির যে নতুন মেরুকরণ আমরা দেখতে পাচ্ছি, তাতে করে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটা হুমকি যে তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

সাঈদ ইফতেখারের এমন ধারণার সঙ্গে অনেকটা একমত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক থিঙ্ক ট্যাংক ইনস্টিটিউট অব স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ)। তবে সংস্থাটির ভাষ্য, ইউক্রেনে যুদ্ধ যে শিগগিরই শেষ হচ্ছে না তা ধরে নেওয়াই সঠিক বিচার। ‘দ্য হাই প্রাইস অব ল্যুজিং ইউক্রেন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে গবেষণা সংস্থাটি বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধে বেশিরভাগ মানুষের ধারণার চেয়েও অনেক উচ্চমাত্রার স্বার্থ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। রাশিয়ার বিরুদ্ধে তারা ইউক্রেনকে যেকোনো মূল্যে জেতাতে চায়। কিন্তু গাজা যুদ্ধ আর মার্কিন ক্ষমতার পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে এবং ইউরোপও সে পথে হাঁটে, তাহলে সমগ্র ইউক্রেন রাশিয়ার দখলে যাওয়াও অসম্ভব নয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও স্বীকার করেছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে তার দেশের চলমান যুদ্ধ থেকে সবার দৃষ্টি এমন এক সময়ে গাজা যুদ্ধের দিকে চলে গেছে, যখন পশ্চিমের সহায়তা কমে যাওয়ায় ইউক্রেনের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

সমর বিশেষজ্ঞরা বলছেন,  রাশিয়ান সেনাবাহিনী বিজয়ী হলে, তারা হবে যুদ্ধাভিজ্ঞ একটি বাহিনী। এ অবস্থায় দিনে দিনে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কমতে থাকবে এবং এর ফলে মেকানাইজড যুদ্ধে কঠিন লড়াই করে জেতার অভিজ্ঞতার যে শিক্ষা তারা লাভ করেছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি দুর্ধর্ষ সেনাবাহিনী গড়ে তুলবে মস্কো। এর মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পরে প্রথমবারের মতো ন্যাটো জোটের বিরুদ্ধে সর্ববৃহৎ প্রচলিত সামরিক হুমকি হয়ে উঠবে রাশিয়া; যা তার মিত্র চীনকে বৈশ্বিক অর্থনীতির মোড়ল হয়ে উঠতে সাহায্য করবে; যা বিশ্ব রাজনীতির নতুন মেরুকরণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

নয়াদিল্লিভিত্তিক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের অধ্যাপক ব্রহ্ম চেলানি সম্প্রতি প্রজেক্ট সিন্ডিকেটে লেখা এক কলামে বলেছেন, বর্তমানে সংঘাতক্লিষ্ট যে বৈশ্বিক পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে, তা চীনের জন্য একটি বিকল্প বিশ্বব্যবস্থা তৈরি করার বিষয়ে রসদ জোগাতে পারে। এর আগে মহাযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থার উত্থান ঘটেছিল। ব্রহ্ম চেলানির ভাষ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন এবং ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ এবার যুক্তরাষ্ট্রকে সে অবস্থান থেকে সরিয়ে দেবে। গাজার সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক পুনর্গঠনেও গতি আনতে পারে। আর সংঘাত গাজার বাইরে ছড়িয়ে পড়লে তার ভূরাজনৈতিক প্রভাব আরও সুদূরপ্রসারী হবে।