জাতিসংঘ

গাজা যুদ্ধে পরিবার হারিয়ে একাকী ১৭ হাজার শিশু

গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে প্রায় চার মাস ধরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজাতে নির্বিচার বোমা হামলা ও অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।

ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ইতিমধ্যে উপত্যকাটিতে প্রায় ১৭ হাজার শিশু তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বা একা হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।

শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।

শুক্রবার সংস্থাটি জানায়, অনবরত যুদ্ধের কারণে চরম মানসিক অসুস্থতার মধ্যে রয়েছে গাজার প্রায় সব শিশু। তাদের সবার মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা প্রয়োজন।

জেরুজালেম থেকে এক ভিডিও বার্তায় ফিলিস্তিনে ইউনিসেফের প্রধান জোনাথন ক্রিকক্স বলেন, "গাজার প্রত্যেকটি শিশুর দুঃখ এবং শোকের হৃদয়বিদারক কাহিনী রয়েছে।"

তিনি জানান সঙ্গীবিহীন একাকী শিশুদের এ সংখ্যাটি কেবল অনুমান, কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে আসল তথ্য যাচাই করা প্রায় অসম্ভব।

জোনাথন আরও জানান, ‘সঙ্গীহীন শিশুদের পরিবারকে খুঁজে বের করা অত্যন্ত কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে কারণ এসব শিশুদের মাঝে আহত বা আতঙ্কিত এমন শিশুও রয়েছে যারা তাদের নাম পর্যন্ত বলতে পারে না।‘

ইউনিসেফ বিচ্ছিন্ন শিশুদের বলতে তাদের বুঝিয়েছে যারা বাবা-মা ছাড়া বা কোন আত্মীয়-স্বজন ছাড়া একাকী রয়েছে।

ভিডিওতে জোনাথন বলেন, গাজায় যুদ্ধের কারণে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং উপত্যকাটিতে ১০ লাখ শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা প্রয়োজন।

চার মাস ধরে চলমান যুদ্ধের কারণে গাজার শিশুরা উচ্চ মাত্রার উদ্বেগ, ক্ষুধা, ও নিদ্রাহীনতায় ভুগছে। বোমা হামলার শব্দে আতঙ্কিত অবস্থায় দিন-রাত কাটাতে হচ্ছে গাজার শিশুদের।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ২৭ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে এগার হাজারই শিশু।

চলমান এ যুদ্ধে ভূখণ্ডটিতে আরও ৬৬ হাজার ২০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে যারা পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরবরাহ এবং কার্যকরী স্বাস্থ্যসেবার সংকটের মধ্যে রয়েছে। এছাড়া আরো হাজার হাজার মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।