গাজা ও পশ্চিম তীরের পর এবার গাজার বাস্তুচ্যুতদের 'শেষ আশ্রয়স্থল' রাফাহতে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। এমনটাই জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট।
বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সের পোস্টে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, "খান ইউনিসের হামাস সংগঠনের ব্রিগেড ভেঙে দেওয়া হয়েছে, আমরা সেখানে মিশন শেষ করে রাফাতে অগ্রসর হব।"
পোস্টে তিনি আরও বলেন, “আমরা শেষ অবধি চালিয়ে যাব, অন্য কোন উপায় নেই।"
গাজা যুদ্ধ শুরু পর থেকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের বেশিরভাগই গাজার দক্ষিণাঞ্চল রাফাহতে আশ্রয় নেয়। এ অঞ্চলকে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য 'নিরাপদ অঞ্চল' হিসাবে মনোনীত করেছিল খোদ ইসরায়েল।
রাফাহতে স্থল অভিযানের খবরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সেখানে আশ্রয় নেয়া বাস্তুচ্যুতরা। এছাড়া বৈশ্বিক সাহায্য সংস্থাগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। কারণ গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দ্বারা "নিরাপদ অঞ্চল" হিসাবে মনোনীত রাফাহ গাজার শেষ নিরাপদ স্থান যেটিও বর্তমানে হুমকির মুখে।
আল জাজিরা জানায় বর্তমানে গাজার ২৩ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ১৯ লাখই মিশর সীমান্তের কাছে অবস্থিত রাফাতে আশ্রয় নিয়েছে। তারা বিভিন্ন সংস্থার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানের পাশাপাশি লাখ লাখ ফিলিস্তিনি রাস্তায় খোলা আকাশের নীচে মানবেতর দিন যাপন করছে।
আল জাজিরার সাংবাদিক জানান, তাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। এটিই গাজায় ফিলিস্তিনিদের শেষ আশ্রয়স্থল। এর বাইরে, এটি কেবল মিশরীয় সীমান্ত।”
রাফাহতে আশ্রয় নেয়া ফিলিস্তিনিরা বলছেন ইসরায়েলি স্থল অভিযান হলে তাদের কাছে কেবল দুটি বিকল্প থাকবে, সেখানে থাকা এবং মারা যাওয়া বা মিশর সীমান্তের দেয়ালে আরোহণ করা।
গাজার অধিকাংশ জনসংখ্যা বর্তমানে রাফাহ শহরে। সেখানে অভিযান হলে এটি এমন একটি গণহত্যা হবে যা এই যুদ্ধের আগে কখনও হয়নি বলছেন ফিলিস্তিনিরা।