রাবিতে ভবন ধস; তদন্ত শুরুর আগেই কাজ শুরু

গত মঙ্গলবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন দশতলা শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান আবাসিক হলের একটি অংশ ধসে পড়ে। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। তবে ঘটনার তিন দিন পার হলেও শনিবার দুপুর পর্যন্ত তদন্ত কমিটির কাছে চিঠি পৌঁছায়নি। তাই এই কমিটি তদন্ত শুরু করতে পারেনি। কিন্তু তদন্ত শুরু না হলেও ভবনটির অন্য অংশে কাজ চলমান রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন বলছে, কাজ বন্ধ রাখাতে হবে এরকম কোনো নির্দেশনা তাদের দেওয়া হয়নি। তবে স্বয়ং উপাচার্য বলছেন, তাদের সিভিলের কাজের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। তদন্ত শেষ হলেই তারা সিভিলের কাজ করতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের আওতায় ৭০ কোটি ২০ লাখ টাকা বাজেটে এই হলের নির্মাণ কাজ চালছে। নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছেন মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানটি রূপপুরের ‘বালিশ-কাণ্ড’ ঘটনা থেকে আলোচিত। বিভিন্ন সময়ে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে।

আজ শনিবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরজমিন দেখা যায়, ভবনের ধসে পড়া অংশের কাজ বন্ধ আছে। তবে মূল ভবনের প্লাস্টারসহ ছোট ছোট কাজ করছেন শ্রমিকরা। ভবনের কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী জানান, ধসে পড়া অংশে কাজ করা নিষেধ। তবে অপরপাশে ১২০ জনের মতো শ্রমিক কাজ করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কাজ কি বন্ধ করা হয়েছিল? কাজ বন্ধ রাখতে হবে এরকম কোনো কথা আমার সাথে কারো হয়নি। পিডির সাথে কথা বলেন।’

উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি কাজের নির্দেশ দিয়েছি কাঠের (উড), সিভিলের না। তদন্ত শেষে সিভিলের কাজ শুরু হবে। সিভিলের কাজের কোনো নির্দেশনা আমি দেয়নি। মৌখিকভাবে আমি কাঠের কাজ করতে বলেছি। তা না হলে পিছিয়ে যাবে। কারণ কাঠের কাজের সাথে সিভিলের কাজের কোনো সম্পর্ক নাই। এমনকি আমাদের টরে বলে দেওয়া আছে সেদিনের দুর্ঘটনায় বিল্ডিং কেন ভাঙল এবং গোটা বিল্ডিংয়ের কি অবস্থা। এই দুটো করে তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিলে তবেই সিভিলের কাজ শুরু হবে।’

চিঠি না পৌঁছানোয় ভবন ধসের ঘটনার তদন্ত শুরু হয়নি
এদিকে ঘটনার তিন দিন পার হলেও শনিবার দুপুর পর্যন্ত তদন্ত কমিটির কাছে চিঠি পৌঁছায়নি। কমিটির সদস্যরা বলছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত তারা কোনো চিঠি পাননি। তাই এখনো তদন্তের কাজ শুরু করতে পারেননি।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, তারা আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পাননি। তিনি রাজশাহীর বাইরে আছেন। চিঠি পেলে তদন্তের কাজ শুরু করবেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মো. তারিকুল হাসান বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এখনো অফিস করতে পারেননি। তদন্ত কমিটির চিঠি তার মাধ্যমেই পৌঁছাবে। চিঠির কাজ চলছে। আজ বিকেলে কিংবা আগামীকাল সকালে চিঠি ইস্যু করা হবে।

তদন্তের আগেই কাজ শুরু, ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
তদন্ত না করেই কাজ শুরু করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, অনিয়মের ফলে ভবনের একটা অংশ ধসে পড়েছে। আমাদের কাছে এখন পুরো ভবনটিই ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে কাজ শুরু করলে যেকোনো সময় আবার বিপদ হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করব পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আবার কাজ শুরু করতে। অন্যথায় আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হব। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান গণমাধ্যমকে বলেন, একটা দুর্ঘটনা ঘটে সবার মনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এখন কাজ শুরু করার আগে আবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। যাতে আবার বড় কোনো বড় দুর্ঘটনা না ঘটে।