মমতাকে কংগ্রেসের সন্ধি বার্তা

ভারতে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের জোট গঠন নিয়ে নানা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে। গত বছর বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে কেন্দ্র থেকে হটাতে ‘ইনডিয়া’ জোট গঠন করেছিল কংগ্রেসসহ ভারতের ২৮টি দল। সম্প্রতি জোটের অন্যতম শরিক পশ্চিমবঙ্গ ভিত্তিক দল তৃণমূল কংগ্রেস জোট থেকে দূরত্ব বজায় রাখা শুরু করেছে। তবে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীক্ত বক্তব্যের পরও সন্ধির বার্তা অব্যাহত দিল সর্বভারতীয় কংগ্রেস।  সম্প্রতি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জড়ো ন্যায় যাত্রা’ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অতিক্রম করেছে। যাত্রার সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাহুলের গাড়িবহরের গাড়ির কাচ ভাঙা ও পুলিশি বিধি-নিষেধসহ নানা কারণে তৃণমূলের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ রাজ্য কংগ্রেসের নেতৃত্ব।

রাহুলের যাত্রা পশ্চিমবঙ্গ না ছাড়তেই দলীয় কর্মসূচি থেকে রাহুলের কর্মসূচি নিয়ে কটাক্ষ করেন মমতা। গত শুক্রবার কলকাতার রেড রোডে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি দাওয়া জানানোর ধর্না কর্মসূচি থেকে মমতা বলেন, ‘কংগ্রেস সারাদেশে ৪০টা আসন পাবে কি না জানি না! আগে নিজের জায়গা দেখাও! পারলে বারাণসীতে গিয়ে বিজেপিকে হারাও। রাজস্থান তোমরা জেতা জায়গা হেরেছ। মধ্যপ্রদেশে গিয়ে বিজেপিকে হারাও।’ এ সময় তিনি রাহুলকে আকারে-ইঙ্গিতে বসন্তের কোকিল আখ্যা দেন মমতা।

মমতার ওই বক্তব্যের পর কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় মুখপাত্র জয়রাম রমেশ গতকাল শনিবার বলেন, ‘উনার (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) দাবি অনুযায়ী, বিজেপিবিরোধী লড়াইয়ে শামিল হওয়া উনার অগ্রাধিকার। আমরাও তাই চাই। এ জন্য মনে হয় আমাদের যা করার তা একজোটে করা উচিত। কারণ মনে রাখতে হবে এই নির্বাচন কোনো স্থানীয় নির্বাচন নয়।’ সম্প্রতি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিও জোটে শামিল হয়েছেন ইনডিয়া থেকে বের হয়ে। এ অবস্থায় মমতার সুর বদল বড় শঙ্কারই ব্যাপার।

সর্বভারতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের জন্য বড় শরিক হলো তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, নিয়োগবাণিজ্যসহ নানা ইস্যুতে গত দুই বছর ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছে ইনডিয়াভুক্ত সিপিআইএম এবং কংগ্রেস।