পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই আলোচনা

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ০১:২৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতায় অস্থিতিশীলতা বাড়ছে উপসাগরীয় অঞ্চলে। টানা ৯ম দিনে পাল্টাপাল্টি সংঘাতে কেঁপে উঠেছে পশ্চিম এশিয়ার একটি বড় অংশ। গতকাল সোমবার ভোরে ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, আকাশপ্রতিরক্ষা ও উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, সামুদ্রিক সক্ষমতা-সংক্রান্ত স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং যোগাযোগব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক মিত্র দেশে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। অব্যাহত পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ওয়াশিংটন বলেছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনার দরজা এখনো খোলা। ইরানও প্রায় একই সুরে জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান চলছে।

গত রবিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ওয়াশিংটন সব সময় কূটনৈতিক সমাধানের জন্য প্রস্তুত। তবে সেই আলোচনা হতে হবে বাস্তবসম্মত এবং এমন একটি চুক্তির ভিত্তিতে, যা ইরান মেনে চলতে রাজি থাকবে। গতকাল ইরানের রাজধানী তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, সাম্প্রতিক হামলার পরও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। বাঘাই বলেন, ‘মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আমরা বার্তা পেয়েছি এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কয়েকজন মধ্যস্থতাকারী আমাদের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব ও ধারণা পৌঁছে দিয়েছেন।’

যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে ঠিক কোন পর্যায়ে হামলা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফিরতে চায় ইরান সে বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম ইরনাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছাতে পারলেই কেবল হামলা বন্ধের বিষয়টি বিবেচনায় নেবে ইরান। তিনি আরও জানান, যেকোনো সংকট মোকাবিলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো সহিংসতা বন্ধ করে আলোচনা শুরুর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মুহূর্তটি চিহ্নিত করা। আরাগচি জানান, ‘সংঘাতের অবসান দুইভাবে হতে পারে যুদ্ধক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন অথবা দরকষাকষির মাধ্যমে। যখন আপনি যুদ্ধক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ও দৃশ্যমান কৌশলগত সুবিধা আদায় করে নিতে পারবেন, কেবল তখনই আলোচনা শুরুর উপযুক্ত সময় সামনে আসে।’

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাহশাহর এবং বন্দর ইমাম খোমেইনিসহ বেশ কয়েকটি শহরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা জর্ডানের আকাবায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটি, কুয়েতের আল-আদিরি ক্যাম্প ও আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গতকাল ইরানের বিপ্লবী গার্ড সিরিয়ার একটি কমান্ড সেন্টার ধ্বংসের দাবি করেছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার সকালে দেশটিতে ইরানি হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের পাঠানো ড্রোন প্রতিহত করেছে। ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং সেগুলো অচল হয়ে পড়েছে। এই ঘটনার পর গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথ দিয়ে বাণিজ্য জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত