চীন ও ভারতের সীমানা বিবাদে তিব্বতি পশুপালকরা বিপাকে। চীননিয়ন্ত্রিত তিব্বত এবং ভারতের লাদাখের মধ্যবর্তী এলাকার চারণভূমিতে পশুদের ঘাস খাওয়াতে নিয়ে আসে যাযাবর তিব্বতিরা, যা বহু প্রাচীন প্রথা। চীন ও ভারতের মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর ‘জাংথাং’ তথা ‘নর্দার্ন প্লেইনস’ এলাকায় সম্প্রতি যাযাবর তিব্বতিদের সঙ্গে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সেনাদের হট্টগোল হয়।
চলতি মাসের শুরুর দিকে চীনা সেনাদের সঙ্গে তিব্বতি যাযাবরদের হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ভিডিও সামনে আসে। ২০২০ সালের জুনে তিব্বত ও লাদাখের মধ্যবর্তী ওই অঞ্চলেই চীন ও ভারতের সেনাদের সংঘর্ষ হয়। এতে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়। চীনের হতাহত হলেও তা প্রকাশ্যে আসেনি। পরে সংঘাত এড়াতে দুই দেশের সেনারা তিব্বত ও লাদাখের মাঝের বিস্তৃত এলাকাকে ‘নিরপেক্ষ অঞ্চল (বাফার জোন)’ ঘোষণা করে। সীমান্ত বরাবর দীর্ঘ অঞ্চলে কোনো দেশের সেনাই টহল দেবে না এমন অঙ্গীকার করে নয়াদিল্লি ও বেইজিং।
কিন্তু চীন এসব এলাকায় যেত বাধা দিচ্ছে স্থানীয় তিব্বতি যাযাবরদেরও। অথচ তারা দীর্ঘকাল ধরে শীত মৌসুমে ওই এলাকায় পশুদের চড়াতে আসেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, নিরপেক্ষ অঞ্চলে চীনা সেনারা বাধা দিতে এলেও দেখা যায়নি ভারতীয় সেনাদের। সর্বশেষ প্রকাশ্যে আসা ভিডিওতে দেখা যায়, যাযাবরদের সঙ্গে ডজনখানেক চীনা সেনা তর্ক করছে।
ভারতের হরিয়ানার ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির চীনা অধ্যয়নের অধ্যাপক শ্রীপর্না পাঠক বলেন, ‘নিরপেক্ষ অঞ্চল ঘোষণার পর থেকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকায় টান পড়েছে। চীনের অনুপ্রবেশের কারণে পশুদের ঘাস খাওয়ানো হ্রাস পাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ওইসব অঞ্চলে যাযাবরদের আনাগোনা হ্রাস পেলে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়বে।
চীনা সেনাদের ধাক্কাধাক্কির ভিডিও ধারণকারী যাযাবর নামগিয়েল জানান, তারা ওই অঞ্চলের বেলুং, ডাকলুং ও মেলুংয়ে পশুদের চড়াতে নিয়ে যান। এর মধ্যে মেলুংয়ে যেতে দিচ্ছে না চীনারা এবং এখন বেলুং ও ডাকলুংয়ে যেতের বাধা দিয়ে যাচ্ছে। চীনা সেনারা ওইসব জায়গায় কোনো পশুই চড়াতে দেয় না।