মেট্রোরেলে হাফ পাস-সহ তিন দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ 

আজ সকাল ১১টায় ফার্মগেটে অবস্থান কর্মসূচির পালন করার ডাক দেয় 'মেট্রোরেলে হাফ পাস চাই আন্দোলন'-এর সমর্থকরা। কিন্তু কর্মসূচি পালনে পুলিশি বাধার মুখে তারা বিক্ষোভ মিছিল করে শাহবাগে জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেয়। এসময় মেট্রোরেলে হাফ পাস চাই আন্দোলনের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র মুহাম্মদ প্রিন্স বলেন, মেট্রোরেল হাফ পাস এখন শিক্ষার্থীদের গণদাবি। কিন্তু আমরা গণতান্ত্রিকভাবে আমাদের দাবি রাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরতে গিয়ে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হলাম যা আমাদের বাক স্বাধীনতার ওপর আঘাত। অথচ ১৯৬৯ সালের স্বৈরাচারী আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলনের ১১ দফার ১ এর (ঢ)উপধারা ছিল শিক্ষার্থীদের হাফ পাস নিশ্চিত করতে হবে মর্মে। আগামী দিনগুলোতে মেট্রোরেলে হাফ পাসসহ শিক্ষার্থীদের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রশাসনের সহযোগী মনোভাব পোষণ করবে বলে আশা করি।

মেট্রোরেলে হাফ পাস চাই আন্দোলনের যুগ্ন সমন্বয়ক আশরাফুল ইসলাম নির্ঝর বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতের গণপরিবহনেও রয়েছে। আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে কমপক্ষে ২৫-৩০ বছর সময় লাগে। মেট্রোরেল আইন ২০১৫ এর ১৮ (২) অনুযায়ী, পরিচালনা ব্যয় ও জনসাধারণের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। বিধিমালার ২২ (খ) ধারায় বলা হয়েছে, বিবেচনায় নেওয়া হবে গণপরিবহনের ভাড়া। মেট্রোরেলেও থাকার কথা ছিল একইভাবে সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণের নিয়ম। সেখানে ঢাকা মেট্রোর ২০ কিলোমিটারের ভাড়া ১০০ টাকা করা হয়েছে যার ফলে মেট্রোরেল সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

মেট্রোরেলে হাফ পাস চাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা তো চাকরিজীবী নই। শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক অবস্থা, চাহিদা ও সুযোগ-সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষের। আমাদের তিন দফা দাবি হলো—১. মেট্রোরেলে শিক্ষার্থীদের হাফ পাস কার্যকর করতে হবে। ২. মেট্রোরেলে শিক্ষার্থীদের সহজে যাতায়াত সুবিধার্ধে স্টুডেন্ট র‍্যাপিড পাস প্রদান। ৩. মেট্রোরেলের অতিরিক্ত ভাড়া কমানো ও সর্বনিম্ন ভাড়া ১০টাকা করতে হবে। এবিষয়ে কর্তৃপক্ষ অতিদ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেই আমরা মনে করি।