ফুলের রাজধানীতে নানা রঙের ফুল

ফুলের মৌসুম চলছে। ফুলের রাজধানীখ্যাত যশোরের গদখালী। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদন ভালো হয়েছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে যে ফুল বিক্রি হয়েছে, তাতে আশাবাদী ফুলচাষিরা। সারা দেশের ফুলের চাহিদার ৭০ শতাংশ যশোর থেকে সরবরাহ করা হয়।

সারা বছর কমবেশি ফুল বিক্রি হলেও সাধারণত ১৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ১ বৈশাখ ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ফুল বিক্রি হয় সবচেয়ে বেশি। এই দুই দিবস ছাড়াও রয়েছে ইংরেজি নববর্ষ, মহান শহীদ দিবস, বসন্ত ও বিশ^ ভালোবাসা ও মহান স্বাধীনতা দিবস। এই দিবসগুলোতে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও শুভেচ্ছা জানাতে অন্যতম অনুষঙ্গ তাজা ফুল। তাই শীত থেকে শুরু করে গ্রীষ্ম আসার আগ পর্যন্ত সময়টা ফুলের মৌসুম হিসেবে পরিচিত।

দেশের প্রথম বাণিজ্যিক ফুলের চাষের স্থান হিসেবে সুখ্যাতি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ও পানিসারা ইউনিয়নের। যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক লাগোয়া গদখালী বাজারে প্রতিদিন ভোরে বসে ফুলের হাট। শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে জমে ওঠে ফুলের বাজার। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফুলের উৎপাদন হয়েছে অনেক। গদখালীর বাজার শোভিত নানা ফুলে। এখান থেকে ফুল যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়।

ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ জানান, এ বছর উপজেলার ৬৩০ হেক্টর জামিতে ফুলের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে গোলাপের চাষ হয়েছে বেশি। ১৫০ থেকে ২০০ হেক্টর জমিতে নানা রঙের গোলাপের চাষ হয়েছে।

ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, এ বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীরা। তবে মৌসুমের শুরু থেকে, অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে বিক্রি ভালো হওয়ায় আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তারা। ৩১ জানুয়ারি হয়ে গেল চার দিনব্যাপী ফুল উৎসব। ১৪ ফেব্রুয়ারি বসন্ত উৎসব ও ২১ ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা দিবস। এ অবস্থায় জমজমাট যশোরের ফুলের বাজার।

যশোরে উৎপাদিত উল্লেখযোগ্য ফুল হচ্ছে গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা, গ্লাডিউলাস, রজনীগন্ধা, জিপসি, রডস্টিক, কেলেনডোলাসহ বিভিন্ন ধরনের ফুল।