হৃদরোগ হাসপাতালে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, বিপাকে রোগীরা

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ২ দিন ধরে চলছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। গতকাল রবিবার সকাল থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগ, ক্যাথল্যাব, অপারেশন থিয়েটারের একাংশে বিদ্যুৎ সংযোগে সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড এবং উত্তর ব্লকের বেইজমেন্ট অংশেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা যায়।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে হাসপাতালের এই বিভাগগুলোতে সেবা প্রত্যাশী রোগীদের। এই হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসা সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়েছেন। বহির্বিভাগে সেবা নিতে এসে চিকিৎসক দেখাতে পারলেও এই পরীক্ষা করাতে না পারায় পরদিন আবার আসতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে রোগীদের।

এদিকে সোমবার সকালে হাসপাতালের এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিশু কার্ডিওলজি থেকে ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে কার্যক্রম চালাতে। ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে বিদ্যুৎ নেওয়া থেকে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তা চিকিৎসা নিতে আসা শিশু রোগীদের মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক্সরে বিভাগের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখানে যারা চিকিৎসা নিতে আসেন তাদের সঠিক চিকিৎসা পেতে এক্সরে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম খুব গুরুত্বপূর্ণ। হার্টের রোগীদের রোগ নির্ণয় ছাড়া ওষুধ দেওয়া কিংবা চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো কঠিন। রোগীদের সমস্যার কথা চিন্তা করে আমরা এই সংযোগ নিয়ে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

এক্সরে রিপোর্ট প্রদান কক্ষের সামনে কথা হয় ফজলু মিয়ার সঙ্গে। তার বাবা হার্টের সমস্যায় ভুগছেন। সকালে চিকিৎসক এক্সরে করাতে বলেছেন। অনেক অপেক্ষার পর এক্সরে করাতে পারলেও রিপোর্ট হাতে পাচ্ছেন না তাই বারবার এক্সরে কক্ষের সামনে ঘোরাঘুরি করছেন।

বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে এসেছেন জুরাইনের বাসিন্দা লিপি বেগম। তিনি বলেন, ডাক্তার এক্স-রে ও আল্ট্রা করাতে বলছেন। যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন আজ কার্যক্রম চলছে না, আগামীকাল যোগাযোগ করতে বলা হয়।

হাসপাতালের ২য় তলায় এক্সরে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তাকে কথা বলতে দেখা যায়। তারা জানান, ২ দিন ধরে বিদ্যুৎ সেবা হাসপাতালের একাংশে নেই। এতে রোগীদের ভোগান্তি হচ্ছে , কার্যক্রম চালতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কিন্তু কোনো সমাধান আসছে না।