বাবার মন বুঝল না মানুষ, ‘ছেলেধরা’ ভেবে বেধড়ক পেটাল

মো. শাহিন (৪০) পিতৃত্বের স্বাদ পেতে চেয়েছিলেন অনেকবার। চারটি কন্যা সন্তান জন্মের মাধ্যমে জন্মদাতা পিতাও হয়েছিলেন চারবার। কিন্তু ভাগ্য খারাপ হলে যা হয়। জন্মের পর বিভিন্ন সময়ে চারটি সন্তানই মারা যায় এই তার। এছাড়াও আরও অনেকবার তার স্ত্রীর পেটে সন্তান নষ্ট হয়। এ কারণেই গাড়ির চালকের সহকারী শাহীন যেকোনো ছোট বাচ্চা দেখলেই বাচ্চাকে পিতৃত্বসুলভ আদর করেন। গাড়ির হেলপারি করে কতই বা আয় হয় তার। তবুও ছোট বাচ্চাদের আদর করে চকলেট-চিপস কিনে দেন তিনি। আর এটাই কাল হলো শাহিনের।

মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করছিলেন ৬ বছর বয়সের একটি ছোট মেয়ে বাচ্চাকে। আর এটা দেখতে পেয়ে কোনো কিছু যাচাই-বাছাই না করে আশপাশের কিছু উচ্ছৃঙ্খল এলাকাবাসী শাহিনকে গণধোলাই দিয়ে প্রায় মেরে ফেলেছিলেন। এ সময় বারবার আকুতি জানালেও কে শোনে কার কথা! স্থানীয় কোনো এক ব্যক্তির কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করলে এযাত্রা মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায় শাহীন।

মঙ্গলবার সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নে এঘটনা ঘটে। স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল মেম্বারের নির্দেশে শাহীন আলমকে বেধড়ক পেটানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে এ বিষয়ে জানার জন্য সোহেল মেম্বারের ব্যবহৃত ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সীতাকুণ্ড থানার এসআই আমির হোসেন বলেন, ঘটনাটি হৃদয়বিদারক। এলাকাবাসী না জেনে শাহীন আলম নামে লোকটিকে বেধড়ক পেটায়। পরে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। আজ দিনভর বাচ্চা ও তার অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ও প্রয়োজনীয় তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়ার পর নিরপরাধ শাহীনকে স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেলের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।