দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি বিলে মৎস্য অভয়াশ্রমকে স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্মযুক্ত সোলার সিস্টেম আইপি স্মার্ট ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে 'স্মার্ট মৎস্য অভয়াশ্রমে' রূপান্তর করা হয়েছে। আর এটি দেশে প্রথম 'উদ্ভাবনী উদ্যোগ'। এতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অভয়াশ্রমটিকে যেকোনো স্থান থেকে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং করা যাবে।
অভয়াশ্রমের ১০ মিটারের মধ্যে কোনো মানুষ প্রবেশ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্মার্ট মোবাইল ফোনে মেসেজ চলে আসছে। সেই সাথে ওই ব্যক্তির ছবি তুলে রাখছে। আইপি স্মার্ট ক্যামেরাটি মাসিক ৪০০-৫০০ টাকা ইন্টারনেট বিলের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা পাহারাদারের কাজ করছে।
'স্মার্ট মৎস্য অভয়াশ্রমে' আর এটি পার্বতীপুর উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিলে এই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিলের মাছের রহস্যজনকভাবে চুরি হয়ে আসছে। মৎস্য সম্পদ ও প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণের জন্য মৎস্য অভয়াশ্রমের মাছের নিরাপদ প্রাকৃতিক প্রজননসহ দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রাচুর্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। অভয়াশ্রম মেরামতের পর পাহারাদার না থাকার কারণে ইতিপূর্বে অভয়াশ্রম হতে মৎস্য নিধন ও মেরামতের বিভিন্ন উপকরণ চুরির ঘটনা ঘটেছে। ৪০০ একর বিলের মধ্যে ১২০ শতক স্থানে ১ ফেব্রুয়ারি খনি বিলে মৎস্য অভয়াশ্রমকে আইপি স্মার্ট ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে স্মার্ট মৎস্য অভয়াশ্রমের আওতায় আনা হয়েছে।
পার্বতীপুর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু জাফর মোহাম্মদ শাহীন জানান, উদ্ভাবনী এই উদ্যোগটি দেশে প্রথম। মৎস্য সম্পদের সংরক্ষণ, মাছের নিরাপদ প্রজনন ও বিলুপ্ত প্রায় মাছের পুনরাবির্ভাব। মৎস্য সেক্টরে স্মার্ট মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনার এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে এক ধাপ। খনি বিলে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা বিভিন্ন জাতের মাছ চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি ঠেকাতে এবং রহস্যজনক চোর ধরতে এ নতুন পদ্ধতি অবলম্বন।