রুবেলকে কাজে লাগানো যায়নি, অন্যদের কাজে লাগান

আহমেদ রুবেলদের মতো অভিনেতাকে এ দেশে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি। এমন অভিযোগ সামাজিক মাধ্যম জুড়ে। আহমেদ রুবেলকেও এমন প্রশ্ন করা হতো। তিনি বিনয়ে এড়িয়ে যেতেন। কিন্তু এই বিষয়টি তার প্রয়াণে যেন বেশিই উপলব্ধি করছেন সাধারণ থেকে চলচ্চিত্র ও নাট্য সংশ্লিষ্টরাও। সে কথাই উঠে এলো রুবেলের শেষ বিদায়ে অনেকেই অভিযোগের সুরে বলতেন, আহমেদ রুবেলকে ঠিকভাবে পাওয়া যেত না। অনেকেই ভয় পেতেন, তিনি শুটিংয়ে নিয়মিত সঠিক সময়ে আসবেন কিনা! রুবেলকে নিয়ে এমন ছড়িয়ে যাওয়া কথা কতটা সত্যি? সেসব বিষয়ও এ দিন উঠে এলো অভিনেতার নিকটজনদের বয়ানে!

নির্মাতা নূরুল আলম আতিকের খুব ঘনিষ্ঠজন ছিলেন আহমেদ রুবেল। রুবেলকে স্মরণ করতে গিয়ে নির্মাতা বলেন, ‘তাকে নিয়ে কিছু ভুল মিথ প্রচলিত ছিল। আমার পরের প্রজন্মকে একাধিকবার বলেছিলাম তোমাদের যদি তাকে নিয়ে এতই সংশয় থাকে তাহলে আমাকে বলবা। তার সঙ্গে আমি থাকব। আমি এইটুকু বুঝি, রুবেল ভাইয়ের যে অভিনয় সক্ষমতা সেটা সঠিকভাবে আবিষ্কার করার মতো অনেকেরই নেই। আমি বলব, তাকে স্ক্রিনে ইউজ করা হয়নি। আমরা শুধু তার বাইরের দেমাগ দেখেছি, কিন্তু তার হৃদয়ের লুকায়িত আকাক্সক্ষা কেউ বিকশিত হতে দিতে পারিনি। তাই বলতে চাই, রুবেল ভাইয়ের মতো যারা অভিনয়ের দাপট দেখান তাদের কাজে লাগান।’ নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘রুবেলের মতো যারা মেধাবী অভিনেতা তাদের নামে কিছু না কিছু অপবাদ প্রচলিত হয়। আসলে এগুলো সত্যি নয়। আহমেদ রুবেল তার যোগ্যতা অনুযায়ী হয়তো কাজ করে যেতে পারেননি, কিন্তু যা যা করতে পেরেছে আমি মনে করি, সেগুলো অক্ষয় হয়ে থাকবে।’ বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যারাই বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাদের মধ্যে সেরা ছিলেন আহমেদ রুবেল। এমন মত নির্মাতা মোরশেদুল ইসলামের। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে যতজন শেখ মুজিবের চরিত্রে অভিনয় করেছে আমার কাছে মনে হয় রুবেলই পারফেক্ট ছিল।’

চলচ্চিত্র নির্মাতা মতিন রহমান বলেন, রুবেলকে সত্যজিৎ রায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম। আমার কাছে মনে হয়েছে, এমন পারফেক্ট অভিনয় কীভাবে হয়? হয়তো আমরা তাকে ভালোবাসি। কিন্তু প্রচণ্ডভাবে ভালোবাসি না। হয়তো দূর থেকে রুবেলের কড়া সমালোচনা করেছি, তার কাছে গিয়ে হয়তো কেউ বলিনি রুবেল তুমি কাজ করো।

ঢাকার অদূরে গাজীপুরের জয়দেবপুরের উত্তর ছায়াবিথীতে থাকতেন আহমেদ রুবেল। তিনি সবসময় চাইতেন, এক্সপেরিমেন্টাল ক্যারেক্টার করতে। কিন্তু তার কাছে ঘুরেফিরে একই চরিত্র আসত। এই অভিনেতার ঘনিষ্ঠজন ও নির্মাতা শ্যামল শিশির জানান, আহমেদ রুবেল ছিলেন প্রকৃত শিল্পী। আর একজন প্রকৃত হয়ে তিনি গতানুগতিক চরিত্র একাধিকবার করতে চাইতেন না। এ কারণে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অভিনয়ে অনিয়মিত ছিলেন তিনি।