পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের যেখানে সেখানে মলত্যাগ করছে পর্বতারোহীরা, যা নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে নেপাল। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আট হাজার ‘মলের ব্যাগ’ কিনছে নেপালের প্রত্যন্ত পাসাং লামু পৌরসভা। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এভারেস্ট পাসাং লামু পৌরসভায় পড়েছে। পৌরসভার চেয়ারম্যান মিংমা শেরপা বলেন, আমাদের পাহাড়গুলোয় দুর্গন্ধ শুরু হয়েছে। অভিযোগ পাচ্ছি মানুষের মল পাথরের ওপর দেখা যাচ্ছে। কিছু পর্বতারোহী অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এতে আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।
জানা গেছে, এভারেস্টে চরম তাপমাত্রার কারণে পর্বতারোহীরা যেসব মলত্যাগ করছে তা পুরোপুরি মিলিয়ে যাচ্ছে না। ফলে এখন থেকে যারা এভারেস্ট এবং পাশের মাউন্ট লোটসে উঠবেন তাদের বেজ ক্যাম্প থেকে মলমূত্রের জন্য বিশেষ ব্যাগ কিনতে হবে। ফিরে আসার পর সেই ব্যাগ চেক করা হবে।
বিবিসি জানিয়েছে, আগামী মার্চ থেকে পর্বতারোহনের নতুন মৌসুম শুরু হবে। এ উপলক্ষে যেসব মলের ব্যাগ কেনা হবে তার মধ্যে ৪০০টি বিদেশি পর্বতারোহী এবং ৮০০টি ব্যাগ সহযোগীরা ব্যবহার করবে। এসব ব্যাগে রাসায়নিক এবং পাউডার থাকায় মল শক্ত হয়ে যায় এবং গন্ধহীন হয়।
ধারণা করা হয়, একজন পর্বতারোহী প্রতিদিন ২৫০ গ্রাম মল তৈরি করে। সংশ্লিষ্টরা জানান, তারা পর্বতারোহীদের দুটি করে ব্যাগ দিতে চান। প্রতিটি ব্যাগ পাঁচ থেকে ছয় বার ব্যবহার করা যায়।
উল্লেখ্য, পর্বতারোহীরা বেশিরভাগ সময় কাটায় বেজ ক্যাম্পে। সেখানে তাঁবুর ভেতর আলাদা টয়লেট আছে। বেজ ক্যাম্পের মল নিচে নেওয়ার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু যখন পর্বতারোহীরা উপরে উঠতে শুরু করে তখন বিষয়টি কঠিন হয়ে যায়। উপরে গিয়ে গিয়ে তারা গর্ত খুড়ে প্রাকৃতিক কর্ম সারে। কিন্তু যত উপরে উঠতে থাকে তুষার তত কমতে থাকে। ফলে তখন গর্ত করার সুযোগ থাকে না। বাধ্য হয়ে উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগ করতে হয় তাদের।