বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনের পর এবার পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনেও দেখা গেল ‘স্বতন্ত্র চমক’। চলতি বছরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ২২২টি আসনে জয় লাভ করে। এছাড়া জাতীয় পার্টি (জাপা) ১১ আসনে এবং জাসদ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি একটি করে আসনে জয়ী হয়। আর ৬২টি আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, যাদের মধ্যে ৫৮ জনই আওয়ামী লীগের নেতা।
এই নির্বাচনে দেশের বৃহত্তম বিরোধী দল বিএনপি অংশ নেয়নি, ফলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতেই স্বতন্ত্ররা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অন্যদিকে পাকিস্তানে ১৬তম জাতীয় পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি)। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল এখনও জানা যায়নি। তবে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফল দেখে চমকে গেছেন অনেকেই। কারণ দেশটির ২৬৬টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়জয়কার, যাদের অনেকেই পিটিআই সমর্থিত প্রার্থী।
পাকিস্তান ট্রিবিউন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে ২১৩টি আসনের মধ্যে ৮৯টিতেই জিতেছে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন। দলটি আসন পেয়েছে ৫৯টি। এরপর রয়েছে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির দল পিপিপি। তারা জিতেছে ৫০টি আসনে। অন্য ১৫টি আসনে জিতেছে বাকি দলগুলো।
বৃহস্পতিবার ৯০ হাজার ৬৭৫টি বুথে ভোট দেন পাকিস্তানের সাধারণ ভোটাররা। এসব ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে ছিল ১৪ লাখ কর্মী। দেশটিতে এবারের নির্বাচনে বরাদ্দ ছিল ৪৮ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি। মোট নাগরিকের মধ্যে ভোটার ছিলেন ৫০ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, এই সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ। শুধু তা-ই নয়, এবারের নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ১৮ হাজার স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন করেছে। ব্যালট পেপার ছাপাতে ব্যবহার করা হয়েছে ২০ কোটি ৬০ লাখ কাগজ।
অন্যদিকে ভোটের দিন নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ। তা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। যদিও এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা ইমরান খান। তিনটি আলাদা মামলায় কারাদণ্ড পেয়ে তিনি জেলে বন্দি। আবার দেশটির নির্বাচন কমিশন দলটিকে তাদের প্রতীক ‘ক্রিকেট ব্যাট’ বরাদ্দ দেয়নি। দলটির মনোনীত প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধ্য হয়েছেন।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, দেশটিতে কোনো দল একক সরকার গঠন করতে চাইলে ১৩৪টি আসনে জিততে হবে। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নাও পেতে পারে দলগুলো। ফলে জোট সরকার গঠন করতে হতে পারে।
পাকিস্তানে এবারের নির্বাচনে ২৬৬ আসনে ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনের আগে দুর্বৃত্তের গুলিতে এক প্রার্থী নিহত হওয়ায় একটি আসনে ভোট স্থগিত করা হয়।