মেট্রোর প্রভাবে মিরপুরে বাসাবাড়ির কদর বাড়ছে

জটের শহরে মেট্রোরেল অনেকটা আশার আলো দেখাচ্ছে যোগাযোগে। তবে এই মেট্রো এখন শুধু যোগাযোগেই সীমাবদ্ধ নয়, মেট্রোরেলকে কেন্দ্র করে জীবন যাত্রার মানে আগের থেকে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এক সময়ের মিরপুর এলাকায় অনেকে খুব একটা যেতে আগ্রহী না হলেও এখন মিরপুরের বাসাবাড়ির বেশ কদর বাড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেট্রোরেল নির্মাণ করার সময় মিরপুর এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র যানজট লেগে থাকত। অন্য এলাকার মানুষ খুব একটা মিরপুরে ভাড়া বাসায় থাকতে আগ্রহী হতো না। কিন্তু মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর ফের মিরপুর এলাকায় বসবাস করতে আগ্রহীর সংখ্যা বাড়ছে। মেট্রোরেলের যাতায়াত করা বেশির ভাগ মানুষ মিরপুরের বাসিন্দা।

মিরপুর ১২ নাম্বার এলাকার বাসিন্দা মো. রাকিব হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত দুই বছর আগে মিরপুর এলাকা থেকে বাসা আজিমপুর এলাকায় নিই। মেট্রোরেল নির্মাণের জন্য মিরপুরের রাস্তা খুব খারাপ অবস্থা ছিল। মিরপুর থেকে শাহবাগ আসতে ২ ঘণ্টাও লেগে যেত। পরে অফিসে যাতায়াত করতে খুব সমস্যা হতো। কিন্তু মিরপুর এলাকায় অনেক বছর ছিলাম। এই এলাকার প্রতি একটা মায়া কাজ করে। যার জন্য মেট্রোরেল চালু হওয়ায় আবার চলে এলাম মিরপুরে। কারণ মেট্রোরেলে চড়ে খুব সহজে মতিঝিল এলাকায় যাওয়া যায়।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা মিরপুর পল্লবী এলাকার বাসিন্দা আয়েশা বলেন, মিরপুর বাসা নিয়ে খুব সমস্যায় ছিলাম। অফিস করে বাংলামোটর থেকে গণপরিবহনে বাসায় ফেরা ছিল বড় ভোগান্তি। তাছাড়া আমার আশপাশে অনেকেই তখন অন্য এলাকায় বাসা নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মেট্রোরেল হওয়ার পর আগের অনেকেই আবার মিরপুরে বাসা নিতে চাচ্ছে বলে জানান তিনি।

মিরপুর ১০ নাম্বার এলকার এক বাড়ির মালিক আবু সাইদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার বাসা যে দিনের পর দিন ফাঁকা ছিল তা নয়। দেখা যেত অনেক ভাড়াটিয়ার পক্ষে মিরপুরে থেকে অফিস করতে কষ্ট হতো। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে এই এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় বাসা নিয়েছে। তবে এখন আবার কদর বাড়তে শুরু করেছে মিরপুরে। অনেক পুরনো ভাড়াটিয়ারা এই এলাকায় আবার বাসা নিতে চাচ্ছে। মূলত মেট্রোরেল চালুর পরই এই পরিবর্তন চোখে পড়ছে।

এই এলাকার আরেক বাড়িওয়ালা মমতাজ উদ্দীন বলেন, আমাদের তো নিজস্ব বাসা। আমরা তো চাইলেই অন্য এলাকায় যেতে পারি না। অনেক স্মৃতি আছে এই এলাকা নিয়ে। তাই কষ্ট করে হলেও নিজের বাসায় ছিলাম বছরের পর বছর। কিন্তু মিরপুরে মেট্রোরেল হওয়ার পর এত সুন্দর যোগাযোগ ব্যবস্থা হবে সেটি আগে চিন্তা করিনি। এখন মিরপুরে যানজট নেই। সেই সঙ্গে আধুনিক গণপরিবহন থাকায় বেশ কদর বাড়ছে মিরপুরের বাসাবাড়ির।

সার্বিক বিষয়ে বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, মেট্রোরেল হওয়ার পর মিরপুর যোগাযোগ উপযোগী এলাকা হিসেবে রূপান্তর হচ্ছে। কারণ আগে আমরা দেখিছি ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে বসে থাকতো হতো। তাছাড়া একটি এলাকার আদর্শ এলাকা হতে হলে সেই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও বেশি উন্নত হতে হয়। সেখান থেকে মানুষ যেন এক জায়গায় থেকে আরেক জায়গায় খুব দ্রুত যেতে পারে। আর মেট্রোরেল হওয়ায় এখন মিরপুর সে সুবিধা পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মিরপুরবাসী আগামীতে আরও সুবিধা পেতে থাকবে মেট্রোরেল জন্য। তবে কোনো বাড়িওয়ালা এগুলোকে কেন্দ্র করে যেন ইচ্ছে মতো ভাড়া না বাড়ায় সেটির দিকে নজর দিতে হবে বলে জানান এই যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ।