অবৈধভাবে ইনভেস্টমেন্ট ওয়েবসাইট পরিচালনা ও প্রতারণার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা cry-ptobdf.cc নামে একটি ওয়েবসাইটে বিনিয়োগের মাধ্যমে আয়ের ফাঁদে ফেলে প্রায় ১০০ কোটি টাকা হাতিয়েছে।
সিআইডি বলছে, চক্রটি ভুক্তভোগীর বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রথমে অল্প টাকায় লেনদেন শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে তাদের বানানো ওয়েবসাইটে টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে নেয়। এরপর এসব টাকা আটকিয়ে বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে এবং নতুন করে বিনিয়োগের জন্য ফের প্ররোচিত করে।
শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সিআইডির মুখপাত্র বিশেষ পুলিশ সুপার আজাদ রহমান এসব তথ্য জানান। এর আগে গত বৃহস্পতিবার পঞ্চগড়ে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের একটি দল।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মোসাদ্দেকুর রহমান ওরফে নীড় (৩০), মো. আনোয়ার হোসেন (৩৮) এবং শাহিন ইসলাম (৩১)। তাদের কাছ থেকে মোবাইল, সিম ও অন্যন্য আলামত জব্দ করা হয়।
সিআইডির সদর দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চক্রটি এক ভুক্তভোগীকে ফোন করে অনলাইনে কাজের অফার দেয়। এরপর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ইউটিউবে সাবসক্রিপশন করতে বলে। এতে ১০০ টাকা করে দিয়ে উৎসাহি করা হয় তাকে। এরপর তাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করে নেয় যেখানে আরও ভিকটিম যুক্ত ছিল। তখন ওয়েবসাইটে (www.cry-ptobdf.cc) রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নেয়। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা নিয়ে ভিকটিমের ওই ওয়েবসাইটের অ্যাকাউন্টে জমা দেখানো হতো।
তাদের বিভিন্ন প্ল্যানের বর্ণনা দেওয়া হয়, যেমন ৫ হাজার টাকা ইনভেস্ট করলে ৭ হাজার টাকা, ১০ হাজার দিলে ১৪ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। ভিকটিম যখন তাদের লোভনীয় অফারের ফাঁদে পা দিয়ে বড় বড় অ্যামাউন্টের টাকা ইনভেস্ট করে, তখনই প্রতারক চক্র টাকাগুলো আটকে দেয়। তখন তারা বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে, যেমন আপনি ভুল অ্যামাউন্ট ইনভেস্ট করেছেন, পুনরায় ইনভেস্ট করেন, আপনার টাকা ফ্রিজ হয়ে গেছে, আপনার পূর্বের টাকা বের করতে হলে, পুনরায় ডিপোজিট করুন। এই প্রক্রিয়ায় ওই ভিকটিমের কাছ থেকে প্রায় দশ লাখ ঊনত্রিশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় এই প্রতারক চক্র। এরপর সাইবার পুলিশের কাছে তিনি অভিযোগ করেন।
সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তার মোসাদ্দেকুর রহমান কৌশলে বিকাশ এজেন্ট সিম নিজের কাছে রেখে চক্রের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতারণার টাকা লেনদেন করে। মো. আনোয়ার হোসেন বিকাশের ডিএসও এবং এজেন্ট দোকানদারদের কাছ থেকে সিম সংগ্রহ করে মোসাদ্দেকুর রহমানকে দেয়। শাহিন ইসলাম (৩১) একজন বিকাশের ডিএসও। সে অন্যান্য ডিএসওদের কাছ থেকে এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে মোসাদ্দেকুরকে দেয় এবং মোসাদ্দেকুর প্রতারণার টাকা লেনদেনে সহায়তা করে।