হাতি আর ঈগলের লড়াই

আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের ফাইনালে আজ তিনবারের চ্যাম্পিয়ন নাইজেরিয়া খেলবে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন আইভরি কোস্টের বিপক্ষে। এবারের টুর্নামেন্টের স্বাগতিক আইভরি কোস্ট। টুর্নামেন্টে একই গ্রুপে ছিল এই দুটি দল। স্বাগতিক হওয়ায় বাড়তি সমর্থন পাবে এলিফ্যান্টসরা। তবে সুপার ঈগলস বলে খ্যাত নাইজেরিয়া দলে আছেন আফ্রিকার সেরা খেলোয়াড় ভিক্টর ওসিমহেন।

আফ্রিকা নেশন্স কাপের বাছাইপর্বে ১০ গোল করেছিলেন ওসিমহেন। মূল টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বে দলের প্রথম ম্যাচে গোল করেছিলেন। এরপর আর গোল পাননি তিনি। নাইজেরিয়ান এই স্ট্রাইকার আরও তিনবার জালে বল পাঠালেও তা বাতিল হয়েছে অফসাইডে। নাপোলিতে খেলা ওসিমহেন সিরি আ (ইতালিয়ান লিগ) জয়ের স্বাদ পেয়েছেন গেল মৌসুমে। এবার দেশের হয়ে শিরোপা জিততে চান। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময়ই বলে এসেছি আমার সুপার ইগলসদের হয়ে কিছু একটা জিততে হবে। ফুটবলই একমাত্র বিষয় যা দেশে খুশি বয়ে আনে। আমরা জানি অনেক মানুষ কঠোর পরিশ্রম করে শুধুমাত্র এই ম্যাচ দেখার জন্য। আমি খুশি ওই সব মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে। এখন আমাদের আর একটি ফাইনাল বাকি। আমরা সব কিছু উজাড় করে দেব জয়ের জন্য।’ নাইজেরিয়া সবশেষ আফ্রিকা নেশন্স অব কাপ জিতেছে ২০১৩ সালে।

এবার সেমিফাইনালে নাইজেরিয়া জিতেছিল টাইব্রেকারে। আর আইভরি কোস্ট সেমিফাইনালে ১-০ গোলে জিতেছে কঙ্গোর বিপক্ষে। সেই গোলটি করেছিলেন ক্যানসার জয়ী সেবাস্তিয়ান হলার। বুন্দেসলিগার ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে খেলেন স্ট্রাইকার হলার।

স্বাগতিক দেশ হিসেবে এর আগে আফ্রিকার শিরোপা জিতেছে কেবল মিসর। সেটি ২০০৬ সালে আইভরি কোস্টকে হারিয়েই। এবার মিসরের সেই রেকর্ডে ভাগ বসাতে চায় এলিফ্যান্টসরা।

গ্রুপ পর্বের ম্যাচে নাইজেরিয়া ১-০ গোলে হারিয়েছিল আইভরি কোস্টকে। গ্রুপে দুই জয় ও এক ড্রতে ৭ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট রাউন্ডে ওঠে নাইজেরিয়া। অপরদিকে আইভরি কোস্ট কেবল একটি জয় নিয়ে সেরা তৃতীয় দলের একটি হয়ে ওঠে নকআউট রাউন্ডে।

নাইজেরিয়া ও আইভরি কোস্ট এর আগে ১৮ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। দুই দলই সমান ৯টি করে ম্যাচ জিতেছে। বাকি ১০ ম্যাচ ড্র হয়।

২০১৫ সালে আইভরি কোস্টের শিরোপা জয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন কোলো টুরে। ৪২ বছরের কোলো টুরে বলেন, ‘সমর্থকরা অবিশ^স্য। নেশন্স কাপ নিয়ে তাদের আবেগের শেষ নেই। অনেকে হয়তো ঠিকমতো খাবার পায় না কিংবা তাদের ঘুমানোর জন্য ভালো জায়গা নেই। কিন্তু যখন ফুটবলের বিষয়টি আসে, তারা তাদের সংগ্রামগুলো ভুলে যায়। তারা আশা করে খেলোয়াড়রা ১৫০ ভাগ দেবেন। যদি আইভরি কোস্ট জিততে পারে ম্যাচটি ২০১৫ এর চেয়েও ডাবল উদযাপন হবে এবার।’