চার দফা দাবিতে জাবিতে নিপীড়নবিরোধী মঞ্চের মশাল মিছিল 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিক্ষা জীবন শেষ হওয়া (অছাত্র)  শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল থেকে বের করাসহ চার দফা দাবিতে মশাল মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ষণকাণ্ডের পর আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম 'নিপীড়নবিরোধী মঞ্চ'। 

রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় শহীদ মিনার থেকে মশাল মিছিল বের হয়। মিছিলটি বটতলা ঘুরে মূল সড়ক দিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। সমাবেশে উপাচার্য উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন।

আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো হলো- ধর্ষণে অভিযুক্ত ও পলায়নে সহযোগিতা কারীদের রাষ্ট্রীয় আইনের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে, মীর মোশারফ হোসেন হল ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে প্রাধ্যক্ষসহ হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে আসা অভিযুক্তদের পলায়নে সাহায্য করার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি করে দ্রুত বিচার করতে হবে, আবাসিক হলগুলো থেকে মাদকের সিন্ডিকেট উৎখাত করতে হবে এবং হলগুলো থেকে অছাত্রদের বের করতে হবে, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি প্রক্টর ও নিরাপত্তা শাখার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল গঠন করত হবে।

সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘উপাচার্য বলেছিলেন,  ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এবং আবাসিক হলে অবস্থানরত অছাত্রদের বের করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিবেন। পাঁচ কর্ম দিবসের মধ্যে অছাত্রদের হল থেকে বের করবেন। আজকে পাঁচ কর্ম দিবস শেষ হয়েছে। কিন্তু তিনি সুনির্দিষ্ট কোন পদক্ষেপ সম্পর্কে আমাদেরকে অবহিত করেননি। আমরা জানতে পেরেছি কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। 
গোয়েন্দা সংস্থা এবং র‍্যাবের তথ্য অনুযায়ী আমি বলতে পারি বিশ্ববিদ্যালয় মাদক বাণিজ্যের জায়গায় পরিণত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ধর্ষণের মত একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটার পরেও বিশ্ববিদ্যালয় এবং হল প্রশাসন নিষ্ক্রিয়। অতীতে সংগঠিত ঘটনাগুলোর বিচারহীনতার ফলে বিশ্ববিদ্যালয় আজকে এই পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। আমি এর আগে উপাচার্যকে বলেছিলাম অছাত্রদের হল থেকে বের করার ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেন। কিন্তু তিনি নেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংসের পেছনে অছাত্রদের ফলে সৃষ্ট  গণরুম দায়ী। গণরুমে থেকে মস্তিষ্ক বিকৃত হওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা ন্যাক্কারজনক কাজে লিপ্ত হয়। আমি বিশ্বাস করি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি শিক্ষক এই পরিস্থিতির পরিবর্তন চায়। তবে প্রশাসনের সমস্যা কোথায়? ’

নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী সামিয়া বলেন,'বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহমুদুর রহমান জনি যৌন নিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার বিচার হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসন হাতে হাত রেখে হাঁটছে। রাষ্ট্রের মতো বিশ্ববিদ্যালয়েও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও জাকসু নির্বাচন হয়নি, নিপীড়ন ও অপকর্মের মতো নানা ঘটনার বিচার হয়নি।'

আন্দলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত হয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূরুল আলম  আন্দোলনকারীদের বলেন, ‘ আমরা আমাদের জায়গা থেকে আপ্রাণ চেষ্টা করছি অছাত্রদের হল থেকে বের করার জন্য। আমি শতভাগ সফল হইনি ঠিকই কিন্তু সফল হয়েছি। অনেক হল থেকে অনেক ছাত্রদেরকে ইতোমধ্যে বের করা হয়েছে বলে আমার কাছে তথ্য এসেছে। আমাকে আরও দুই একটা দিন সময় দিতে হবে তাহলে আমি  সকল অছাত্রদেরকে হল থেকে বের করে দিতে পারব।’