৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়েও তাওহীদকে জীবিত পাওয়া গেল না

শনিবার মাদ্রাসা ছাত্র তাওহীদ হোসেনকে (১০) অপহরণের পর ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারী। টাকা দিয়েও একমাত্র ছেলেকে জীবিত ফেরত পাননি মা তাসলিমা আক্তার। অপহরণের ৩৬ ঘণ্টা পরে পেয়েছেন ছেলের মরদেহ। এ ঘটনায় মো: মকবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

এ সময় তার কাছ থেকে মুক্তিপণের ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ সোমবার ভোরে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে তাওহীদ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত তাওহীদ আব্দুল্লাহপুর রসুলপুর মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

র‍্যাব জানায়, মকবুল পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। ভুক্তভোগী পরিবারের বাসায় কিছুদিন আগে কাজ করেছেন। তার ধারণা ছিল তাওহীদের বাবা প্রবাসী হওয়ায় মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায় করা যাবে। এজন্য ৬ মাস ধরে পরিকল্পনা করেছিল মকবুল। 

র‍্যাব আরও জানায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাওহীদকে অপহরণ করে মকবুল। পরে তাকে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে বেঁধে রাখে। সে একটি মোবাইল ফোন তাওহীদের বাড়ির পাশে ফেলে আসে এবং সেই মোবাইলে ফোন দিয়ে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে তাওহীদ চিৎকার করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ একটি সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়। 

পরদিন মুক্তিপণের টাকা নিয়ে প্রথমে আব্দুল্লাহপুর বাজারে, সেখান থেকে রাজেন্দ্রপুর, তারপর রসুলপুর আসতে বলে তাওহীদের মামাকে। পরে মাওয়া সড়কের রাজেন্দ্রপুর ওভার ব্রিজের ওপরে একটি পিলারের নিচে টাকা রেখে যেতে বলে। সেখান থেকে টাকা নিয়ে একটি 
আবাসিক হোটেলে ওঠে মকবুল। সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। 

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহেদ ইকবাল বলেন, ‘তিন লাখ টাকা অপহরণকারীকে দিয়েও তাওহীদকে জীবিত পাওয়া গেল না। তাওহীদ হত্যার খবরে এলাকার শোকাচ্ছন্ন মানুষ ক্ষোভে ফুসছেন। অভিযুক্ত মকবুলের সঙ্গে আরও যারা জড়িত, তাদেরকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছে এলাকাবাসী।’

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ মাহাবুব রহমান বলেন, ‘অপহরণের ঘটনার পর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করেছে র‍্যাব সদস্যরা। ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।