১০ দলের ফেডারেশন কাপের অদ্ভুত ফরম্যাটে কপাল পুড়লো চট্টগ্রাম আবাহনীর। মঙ্গলবার ব্রাদার্সকে ৩-০ গোলে হারিয়েও বিদায় নিতে হলো তাদের। অন্যদিকে গ্রুপের দুই ম্যাচ হেরে কোন পয়েন্ট ছাড়াই শেষ আটে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র
ফেডারেশন কাপ নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন মেতে উঠেছে সার্কাসে। বাফুফের কম্পিটিশন বিভাগের কর্তাদের উর্বর মস্তিস্ক থেকে উদয় হওয়া এক আজগুবি ফরম্যাটের কারণে একটি দল গ্রুপপর্বে কোন ম্যাচ না জিতে, কোন পয়েন্ট না পেয়েও উঠে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। আবার একটি দল ম্যাচ জিতেও বাদ পড়েছে!
মঙ্গলবার 'বি' গ্রুপের দুটি ম্যাচ দিয়ে শেষ হয়েছে গ্রুপপর্ব। যার একটিতে চির বৈরী আবাহনীকে ২-১ এ হারিয়ে গ্রুপসেরা হয়েছে মোহামেডান। অন্যটিতে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ৩-০ তে উড়িয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনী। অথচ দ্বিতীয় ম্যাচটি ফরম্যাটের কারণেই হয়ে উঠেছিল গুরুত্বহীন। আজগুবি ফরম্যাটে গ্যাঁড়াকলে পড়ে দু'দল আগেই বাদ পড়ে গিয়েছিল। আবার ফরম্যাটের ফাঁক গলে বসুন্ধরা কিংস ও ফর্টিস এফসির কাছে হেরে সি গ্রুপের তলানীর দল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র নাম লিখিয়েছে শেষ আটে!
কোয়ার্টার ফাইনালের লাইন-আপ চূড়ান্ত করতে গিয়ে নিজেদের বিগঘুটে ফরম্যাটে প্যাচে পড়ে গিয়েছিল বাফুফের অকর্মন্য কম্পিটিশন্স বিভাগ। তাই তো ম্যাচ শেষ হওয়ার তিন ঘন্টা পেড়িয়ে যাওয়ার পর তারা কোয়ার্টার ফাইনালের প্রশ্নবিদ্ধ লাইন-আপ প্রকাশ করেছে।
ফেডারেশন কাপের গ্রুপপর্বে চিল ১০ দল। বাফুফে এদের তিন গ্রুপে ভাগ করেছিল কোয়ার্টার ফাইনালের আট দল বেঁছে নেওয়ার অভিপ্রায়ে। এর মধ্যে দুটি গ্রুপ তিন দলের, একটি গ্রুপ চার দলের। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল (ছয় দল) ও তিন গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা দুটি গিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে। এই সেরা নির্বাচন করতে গিয়েই বাফুফের পাকিয়ে ফেলে জট। এক পয়েন্ট নিয়ে 'এ' গ্রুপের তৃতীয় সেরা দল রহমতগঞ্জ এবং 'সি' গ্রুপের তৃতীয় দল শেখ রাসেল; যাদের থলেতে নেই এক পয়েন্টও। অন্যদিকে চার দলের 'বি' গ্রুপের তৃতীয় হতে মঙ্গলবার ব্রাদার্সকে ৩-০ গোলে হারায় চট্টগ্রাম আবাহনী। তবে চার দলের গ্রুপের চতুর্থ দলের সঙ্গে অপর তিন দলের খেলার ফলাফল বিবেচিত হবে না- এই নিয়মে ব্রাদার্সের সঙ্গে মোহামেডান, আবাহনী ও চট্টগ্রাম আবাহনীর ফলাফল বাতিল হয়ে যায়। ফলে চট্টগ্রাম আবাহনীর এই জয়ের কোন গুরুত্ব থাকেনি। তাদের সংগ্রহ থাকে শূন্য। এবার তৃতীয় হওয়াদের মধ্যে সেরা দুটি বেঁছে নিতে গিয়ে দেখা যায় রহমতগঞ্জের ১ পয়েন্ট থাকায় তারা যোগ্য দল হয়েই যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। অন্যদিকে শূন্য পয়েন্ট থাকা চট্টগ্রাম আবাহনী ও শেখ রাসেলের বিবেচনা হয় গোলের হিসেব। সেখানে দেখা যায় শেখ রাসেল এগিয়ে (মাইনাস ৩)। ব্রাদার্সের সঙ্গে ফলাফল বাদ দেওয়ার পর চট্টগ্রাম আবাহনীর (মাইনাস ৪)। অর্থাৎ তৃতীয় হওয়া তিন দলের মধ্যে রহমতগঞ্জের সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পেয়ে যায় দুই ম্যাচে হারা শেখ রাসেল।
বাফুফে গোঁজামিল দিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রতিপক্ষ নির্ধারণেও। তিন গ্রুপ সেরার মধ্যেও তারা সেরা নির্বাচন করেছে। এক্ষেত্রে বেশি গোল দেওয়ার সুবাদে সেরাদের সেরা হয়েছে মোহামেডান। তারা খেলবে তৃতীয় হয়ে আসা দুই দলের দ্বিতীয় দল শেখ রাসেলের সঙ্গে। গ্রুপসেরাদের মধ্যে দ্বিতীয় বসুন্ধরা কিংস খেলবে তৃতীয় হয়ে আসা প্রথম দল রহমতগঞ্জের বিপক্ষে। গ্রুপ রানার্স-আপদের মধ্যে সেরা ঢাকা আবাহনীকে খেলতে হবে দ্বিতীয় সেরা রানার্স-আপ ফর্টিজ এফসির সঙ্গে। আর এ গ্রুপের সেরা শেখ জামালকে খেলতে হবে তিন রানার্স-আপের মধ্যে তৃতীয় হওয়া পুলিশ এফসির সঙ্গে।
এমন ফরম্যাট দেখে জাগছে একাধিক প্রশ্ন। প্রথমত দশ দলের টুর্নামেন্টে কোয়ার্টার ফাইনাল রাখা কী খুব প্রয়োজন ছিল। বরং ১০ দলকে দুই ভাগে ভাগ করে হতে পারতো দুই গ্রুপের খেলা। দুই গ্রুপের দুটি করে সেরা দল চলে যেতো সরাসরি সেমিফাইনালে। দ্বিতীয়ত এ ধরণের ফরম্যাট ফিফা ও এএফসি করে যখন অনেকগুলো দল নিয়ে কোন আয়োজন করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে দেখা যায় অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা থাকে বেজোড়। আবার অনেক দল নিজেদের প্রত্যাহারও করে নেয়। তখন দেখা যায় একেক গ্রুপের দল সংখ্যা একরকম রাখার সুযোগ থাকে না। তখন বেশি সংখ্যক দলের গ্রুপের তলানীর দলের সঙ্গে ফলাফল বাতিল করা হয়। বাফুফে অগ্র-পশ্চাত বিবেচনা না করে ফরম্যাট করার ক্ষেত্রে আর্ন্তজাতিক এই নিয়ম অনুসরণ করেই যত গন্ডগোল পাঁকিয়েছে। নিজেদের ভুলটা বুঝতে পেরে অবশ্য সামনে থেকে ফরম্যাট সহজীকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাফুফে।
কোয়ার্টার ফাইনাল সূচী
২ এপ্রিল মোহামেডান-শেখ রাসেল
১৬ এপ্রিল বসুন্ধরা কিংস-রহমতগঞ্জ
২৩ এপ্রিল শেখ জামাল-পুলিশ এফসি
৩০ এপ্রিল ঢাকা আবাহনী-ফর্টিজ এফসি