প্রজন্মের বিভাজন হলেও দর্শন একই

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ১৯৮৬’র ৩১ মে যখন মোরাতুয়ায় ইমরান খানের সঙ্গে এশিয়া কাপের ম্যাচে টস করছেন, হান্নান সরকার তখন বছর চারেকের শিশু। সময়ের স্রোতে দুজন এখন সহকর্মী! জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক লিপু আর নির্বাচক হান্নান। আগের দিন নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে সোমবার এসেছিলেন মিরপুরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কার্যালয়ে। গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন নিজেদের অনুভূতি এবং কর্মপরিকল্পনা। ঘুরে ফিরে এসেছে দল নির্বাচনে কোচসহ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রভাবশালী অংশের হস্তক্ষেপের কথাও। প্রথম দিনেই লিপু জানালেন, দল বাছাইয়ের স্বাধীনতা খর্ব হলে পদ ছাড়তেও পিছপা হবেন না।

বিদায়ী নির্বাচক প্যানেলের দিকে সবচেয়ে বেশি যে অভিযোগটা ওঠে তা হলো সমন্বয়হীনতার। অনেক সময়ই পারফরম্যান্সের চেয়ে প্রভাবশালীদের ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দ হয়ে উঠেছিল মুখ্য। প্রায় এক দশক পর ক্রিকেট প্রশাসনে ফিরে লিপু কি পারবেন দল নির্বাচন প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা ফেরাতে? মানবেন স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ? লিপু বলেছেন, ফেরার রাস্তা খোলা রেখেই এসেছেন, ‘স্বাধীনতা থাকবে। এই ব্যাপারে আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে আগের প্রক্রিয়া নিয়ে আমি আর কথা বাড়াতে চাই না। এই নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। যেহেতু দল নির্বাচনের বিষয় সেখানে অধিনায়ক, কোচ অবশ্যই সম্পৃক্ত থাকবেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সিস্টেমের মধ্যেই রাখার চেষ্টা করব। আমার বিশ্বাস, স্বাধীনভাবে না হলে কাজ করে কোনো আনন্দ নেই। তো রাস্তা সবসময় খোলা আছে। আসার রাস্তা যেমন খোলা, যাওয়ার রাস্তাও খোলা।’

দুটো ভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে সেতুবন্ধন হয়ে আছেন আগের নির্বাচক কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক। এই তিনজন মিলেই আগামী ২ বছর ধরে ঠিক করবেন, কারা গায়ে তুলবেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের পরম আরাধ্য লাল-সবুজ জার্সি। প্রথম দিনের কথাই তারা যা বললেন, তাতে আস্থা রাখা যায়। অনেক ভূমিকায় অতীতে দায়িত্ব পালন করা লিপুর ঘোর নিন্দুকরাও বলবেন না যে তিনি আপসকামী। বরং তার দৃঢ় ব্যক্তিত্ব দিয়ে অনেক অনিয়ম রুখে দেবেন সেটাই প্রত্যাশা। আর প্রত্যাশাটা আরও বেড়ে যায় যখন প্রায় এক দশক পর বিসিবিতে পা দিয়েই বলেনÑ যাওয়ার রাস্তাও খোলা।