নিজের ঘর চট্টগ্রামে ফাগুনের প্রথম দিনে আগুন ঝড়া মুহূর্ত কাটালেন তামিম ইকবাল। গতকাল অধিনায়ক হিসেবে টসে জিতেছেন, খেলেছেন ৭১ রানের নিজের আসর-সেরা ইনিংস। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিপিএলে ১০০ ছক্কার মাইলফলক ছুঁয়েছেন। আর শেষমেশ ম্যাচটি জিতে নিয়েছেন ২৭ রানের ব্যবধানে। হয়েছেন ম্যাচসেরাও। এ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে নেট রানরেটের ব্যবধানে চট্টগ্রামকে পেছনে ফেলে তিনে উঠে এসেছে বরিশাল।
ছক্কাশুমারিতে বিপিএল ইতিহাসে তামিমের ওপরে আছেন শুধু একজন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ইউনিভার্স বস ক্রিস গেইল। ক্যারিবীয় এ তারকা বিপিএলে মাত্র ৫২ ইনিংসে সর্বমোট ১৪৩টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। সে হিসেবে শততম ছক্কার মাইলফলকে পৌঁছতে তামিমকে খেলতে হয়েছে ৯৭ ইনিংস। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বিপিএলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৭টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন দুজন, ইমরুল কায়েস ও মুশফিকুর রহিম। গতকাল মুশফিকের সুযোগ থাকলেও ব্যাটিংয়ে খুব একটা কিছু করতে পারছেন না এ উইকেটকিপার ব্যাটার। ফিরে যান মাত্র ১ রানেই। আর তারকা বিদেশিদের ভিড়ে ইমরুল কায়েস কাল কুমিল্লার একাদশেই সুযোগ পাননি।
গতকাল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ফরচুন বরিশালের দেওয়া ১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় দুর্দান্ত ঢাকার ইনিংস থেমেছে ৮ উইকেটে ১৫৯ রানে। দ্বিতীয় ওভার শেষ না হতেই টপ অর্ডারের তিনজন নাঈম শেখ, অ্যাডাম রসিংটন ও সাইফ হাসান ফিরে যান সাজঘরে। অস্ট্রেলিয়ান সুইপোলজিস্ট অ্যালেক্স রস একমাত্র ঢাকার হয়ে ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়েন। এক প্রান্তে রস টিকে থাকলেও তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের কেউ। শেষ দুই জুটিতে তাসকিন ও আরাফাত সানিকে নিয়ে রসের তোলা ৪৩ বলে ৭৯ রান কেবল আক্ষেপই বাড়িয়েছে। রস কাল খেলেন ৪৯ বলে ৮৯ রানের দারুণ ইনিংস। চার মারেন ৫টি, ছক্কা হাঁকান ৭টি। ইনিংসের শেষ ওভারে নেন সৌম্যর বলে ২৩ রান।
বরিশালের বোলারদের মধ্যে আগুন ঝড়ান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়ে এসে ৪ ওভারের কোটায় ৩১ রানে নেন ৩ উইকেট। ৩ উইকেট শিকার করেন আরেক পেসার খালেদ আহমেদ, তিনি দেন ২৬ রান। কেশব মহারাজ ও ওবেড ম্যাককয় ১টি করে উইকেট পান।
এর আগে তামিম ইকবালের আসর-সেরা ইনিংস আর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ঝড়ো ফিনিশিংয়ে ৬ উইকেটে ১৮৬ রানে পুঁজি সংগ্রহ করে বরিশাল। নিজের শহরে দুরন্ত ঢাকার বিপক্ষে খেলেন ৪৫ বলে ৭১ রানের ঝড়ো ইনিংস। ৭ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় খেলা ইনিংসটিতে তামিমের স্ট্রাইক রেট ১৫৭.৭৭। তিনি ফিফটি ছোঁন ৩৪ বলে।
আহমেদ শেহজাদ ২২ বলে ২৪, সৌম্য সরকার ২৩ বলে ২৮ ও মাহমুদউল্লাহ আউট হন ১০ বলে ১৩ রান করে। উদ্বোধনী উইকেটে তামিম ও শেহজাদ নবম ওভারে গড়েছিলেন ৭৬ রানের জুটি। পরের ব্যাটাররা স্বাচ্ছন্দ্যে না খেলায় স্কোরটা ২০০ ছাড়ায়নি তাদের।
শরিফুলের করা শেষ ওভারে ঝড় তোলেন সাইফউদ্দিন। প্রথম বলে ১ রান নেন শোয়েব মালিক। শেষ ৫ বলে সাইফউদ্দিন একাই করেছিলেন ২২। তাতে চার ও ছক্কা ছিল সমান দুটি করে। ওভারটি থেকে আসে ২৩ রান, শরিফুলের ক্যারিয়ারে এটাই সবচেয়ে খরুচে ওভার। মালিক অপরাজিত ছিলেন ৯ বলে ১০ রানে। আলাউদ্দিন বাবু ৪ ওভারে ৩০ রানে নেন ৩ উইকেট। তাসকিন আহমেদ ৩০ রানে নেন ২ উইকেট।
গতকালের জয়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে টপকে তিনে উঠে এসেছে তামিমের দল। ৯ ম্যাচে দুই দলেরই সমান ১০ পয়েন্ট হলেও নেট রানরেটে এখন চট্টগ্রামের (-০.৮৮৪) চেয়ে এগিয়ে বরিশাল (০.৪৭৫)। প্রথম ৪ ম্যাচে ৩টি হারের পর সবশেষ ৪ ম্যাচের ৩টিতেই হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছে তামিমের বরিশাল। অন্যদিকে বিপিএলের নতুন দল দুর্দান্ত ঢাকার বসন্ত মøান হয়েছে আরও একটি নিদারুণ হারে। টানা হারের রেকর্ড প্রলম্বিত করে এখন ৯-এ গিয়ে ঠেকেছে দলটি। একমাত্র জয় আসরের উদ্বোধনী ওই ম্যাচেই, চমক দেখিয়ে কুমিল্লার বিপক্ষে। ম্যাচের পর তাসকিনের কষ্টমাখা হাসি আর ‘পরাজয় সব সময়ই কঠিন’ মন্তব্যই বলে দেয় ঢাকা ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মনের অবস্থা।