জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সের চারটি অ্যাম্বুলেন্সর মধ্যে তিনটি অ্যাম্বুলেন্সই অকেজো হয়ে পড়ে আছে। বর্তমানে একটি অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলেও মেরামত করতে হয় প্রতিনিয়ত। অ্যাম্বুলেন্স সংকটের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগী ও রোগীর স্বজনদের। উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা ও বিভাগীয় শহরের রোগী নিতে নির্ভর করতে হয় প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের ওপর। এতে গুনতে হয় বাড়তি টাকা।
কর্তৃপক্ষের অবহেলায় অ্যাম্বুলেন্স তিনটি অকেজো অভিযোগ রোগীর স্বজনদের। অ্যাম্বুলেন্স তিনটি মেরামতের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গাজী রফিকুল হক।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ ও ২০১০ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে রোগী বহনের জন্য দুটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়। ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের একটি অ্যাম্বুলেন্স এবং ২০১৭ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আরও একটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়। ১৯৯৫ ও ২০১০ সালের দেওয়া অ্যাম্বুলেন্স দুটি প্রায় ১১ বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ২০১৫ সালের প্রধানমন্ত্রীর উপহারের অ্যাম্বুলেন্সটিও ৩ বছর ধরে বিকল। বর্তমানে ২০১৭ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া অ্যাম্বুলেন্সটি সচল রয়েছে। তবে সেটাও প্রতিনিয়ত মেরামত করতে হয়।
সরজমিন দেখা যায়, একটি টিনের ছাউনির নিচে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স পড়ে রয়েছে। তারমধ্যে দুটি অ্যাম্বুলেন্স পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হলেও একটি খোলা রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স তিনটিতে ধুলা-ময়লার স্তর। তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে দুটি মরিচা ধরেছে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। তারমধ্যে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। একটি অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলেও তা মাঝে মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর বা বিভাগীয় শহরে নেওয়ার প্রয়োজন হলে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সর ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে আমাদের বাড়তি অনেক টাকা গুনতে হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় অ্যাম্বুলেন্স তিনটি নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। তারা চাইলেই অ্যাম্বুলেন্স তিনটি মেরামত করে রোগী বহনে সচল করতে পারেন। জরুরি রোগীদের বহনে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স তিনটি মেরামত করার দাবি জানান তারা।
রোগীর স্বজন আল আমিন বলেন, আমার ছোট বোন তিন দিন হয় হাসপাতালে ভর্তি। এখানে রোগীদের অবস্থা একটু খারাপ হলেই পাঠানো হয় জেলা সদর বা বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে। তখন জরুরি প্রয়োজন হয় অ্যাম্বুলেন্সের। হাসপাতালে একটি মাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলেও তা ঠিক সময়ে পাওয়া যায় না।
রোগীর আরেক স্বজন ফয়সাল আহাম্মেদ বলেন, 'মেলান্দহ থেকে সদর হাসপাতালে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে রোগী নিয়ে গেলে এক হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। এ হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলে এত টাকা গুনতে হতো না। তাই গরিব রোগীরা সিএনজি বা অটোরিকশা দিয়ে হাসপাতালে যায়। অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে আশঙ্কাজনক রোগীদের সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিতে দেরি হওয়ায় অনেক রোগী পথেই মারা যায়। তিনি দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স তিনটি মেরামতের দাবি জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, 'তিনটি অ্যাম্বুলেন্স একদম নষ্ট হয়ে গেছে। একটি অ্যাম্বুলেন্স সচল আছে। এটিও কোনো রকমে চলছে। যেকোনো সময় এটি বিকল হতে পারে।' দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স মেরামতের পাশাপাশি নতুন আরও একটি অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গাজী রফিকুল হক বলেন, 'একটি অ্যাম্বুলেন্স সচল ও দীর্ঘদিন থেকে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট রয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে মাঝপথে একটি অ্যাম্বুলেন্স মেরামত করে সচল করা হয়েছিল। পুনরায় সেটা নষ্ট হয়েছে। এখন একটি অ্যাম্বুলেন্সের সচল রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স মেরামত করার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।'