বসুন্ধরায় হারল রহমতগঞ্জ

সাত ম্যাচে সাত ড্রয়ের অনন্য রেকর্ড নিয়ে শুক্রবার কিংস অ্যারেনায় পা রেখেছিল রহমতগঞ্জ। স্বপ্ন ছিল অন্যদের মতো স্বাগতিক বসুন্ধরা কিংসকেও চমকে দেওয়া। তবে এবার আর হলো না। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ দলের কাছে ভাঙল পুরান ঢাকার দলটির সব প্রতিরোধ। প্রথমে পিছিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলে জয় পেয়েছে টানা চার লিগ শিরোপাজয়ী কিংস। রাজশাহীতে লিগের অপর ম্যাচে বাংলাদেশ পুলিশ এফসিকে ২-১ গোলে হারিয়ে মূল্যবান তিন পয়েন্ট পেয়েছে স্বাগতিক ফর্টিজ এফসি।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার নিজ আঙিনায় বাংলা অক্ষরে নাম লেখা জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল বসুন্ধরা কিংস। নিজেদের মাঠে আগের ম্যাচেই লিগে প্রথম হারের তেতো স্বাদ পেয়েছিল তারা। ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সফল করার একটা দায় তো ছিলই, সবচেয়ে বড় দায় ছিল হারের দুঃস্মৃতি ভুলে ফের ঘরের মাঠে জয়োৎসব করা। সেটা তারা করেছে নিজেদের মতো করে। মোহামেডানের কাছে ১-০ হারের আঘাত কাটিয়ে ফের জয়ের ধারায় ফিরেছে কিংস। সপ্তম রাউন্ডে পুলিশকে হারানোর পর কাল রহমতগঞ্জকে প্রথম হারের স্বাদ দিয়েছে তারা। তাতে ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানে থেকে লিগের প্রথমপর্ব শেষ করা অনেকটা নিশ্চিত করেছে কিংস। প্রথমপর্বে তাদের ছোঁয়ার সুযোগ আছে কেবল ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে থাকা মোহামেডানের। সেক্ষেত্রে সাদা-কালোদের জিততে হবে প্রথমপর্বের বাকি দুই ম্যাচ। অন্যদিকে টানা সাত ম্যাচ থেকে সাত পয়েন্ট পাওয়া রহমতগঞ্জ এক ধাপ নেমে এখন আছে সাতে।

শেষ পর্যন্ত বড় জয় পেলেও ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট কিংসকে স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি রহমতগঞ্জ। শুরুতে তারা লিড নিয়েছে। পরে সেটা হারালেও খেলে গেছে চোখে চোখ রেখে। এমনকি দ্বিতীয়ার্ধে পিছিয়ে পড়ার পরও জাহিদুর রহমান মিলনের শিষ্যরা জোরালো চেষ্টা করেছে ম্যাচে ফেরার। তবে কিংস সতর্ক থেকে সেটা করতে দেয়নি। উল্টো যোগ করা সময়ে আরও দুই গোল করে জয়ের ব্যবধানটা বাড়িয়েছে।

ম্যাচের দশম মিনিটে রহমতগঞ্জ এগিয়ে যায়। সুশান্ত ত্রিপুরার ফ্রি-কিকে ঘানার ফরোয়ার্ড আরনেস্ট বোয়েটাং দারুণ হেডে কিংস কিপার মেহেদী হাসান শ্রাবণকে পরাভূত করেন। তরুণ শ্রাবণ ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি। পিছিয়ে পড়ে আক্রমণে গতি বাড়ায় কিংস। ১৮ মিনিটে রাকিব হোসেন গোলকিপার মোহাম্মদ নাইমের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে লক্ষ্যভেদ করার চেষ্টা করেও সফল হননি। খানিক বাদে রবসন রবিনহোর ক্রসে রাকিবের হেড পোস্টের ওপর দিয়ে গেলে ফের হতাশ হতে হয় স্বাগতিকদের। তবে ২৬ মিনিটে হতাশা ঝেড়ে ঠিকই পোস্টের দেখা পান আগের সাত ম্যাচে চার গোল করা রাকিব। মাশুক মিয়া জনি বক্সের ওপর থেকে ডান দিকে বল বাড়ান রাকিবকে। দ্রুত বল রিসিভ করে ডানপায়ের কোনাকুনি শটে দূরের পোস্টে বল জমা করেন দারুণ ফর্মে থাকা উইঙ্গার। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সুশান্ত ও মিগেল ফিগেইরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লেও রেফারি নাসিরউদ্দিন অবিশ্বাস্য কারণে কাউকেই কার্ড দেখাননি।

তবে বিরতি থেকে ফিরে মিগেল ঠিকই নিজের মুন্সিয়ানা দেখান নিশানাভেদী ফ্রি-কিকে। বক্সের বেশ বাইরে থেকে তার বাঁ পায়ের বাঁকানো শট নাইম ঝাঁপিয়েও রুখতে পারেননি। পিছিয়ে পড়ার পর রহমতগঞ্জ জোর চেষ্টা করেছে ম্যাচে ফিরতে। ৭০ মিনিটে রহমতগঞ্জের গাম্বিয়ান অধিনায়ক দাউদা সিসে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে জোরালো শট নিয়েছিলেন। তবে শ্রাবণ সেটা কোনোমতে রুখে দেন। বাকিটা সময় নিজেদের ঘর সামলে নির্ধারিত ৯০ মিনিট পার করে কিংস। এরপর হঠাৎ করেই আক্রমণে গতি বাড়িয়ে ছয় মিনিট যোগ করা সময়ে আরও দুই গোল আদায় করে তারা। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মিগেলের থালায় সাঁজানো বল পোস্টে জড়ান ডরিয়েলটন গোমেজ। আর শেষ দিকে সেই মিগেলের আদায় করা পেনাল্টি থেকে ৪-১ করেন ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক রবিনহো। রহমতগঞ্জের কিপার নাঈম বক্সের ভেতর বাজেভাবে ফেলে দেন মিগেলকে। রেফারি দেন পেনাল্টির নির্দেশ। তা থেকে গোল করেন রবিনহো।

রাজশাহীতে ফর্টিজ ও পুলিশের লড়াইয়ের প্রথমার্ধ থাকে গোলশূন্য। ৫১ মিনিটে গাম্বিয়ান পা ওমরের গোলে লিড নেয় স্বাগতিক ফর্টিজ। তবে ৮০ মিনিটে ভেনিজুয়েলা ফরোয়ার্ড এডওয়ার্ড এনরিখ ম্যাচে ফেরান পুলিশকে। যোগ করা সময়ে ইউক্রেনের ফরোয়ার্ড হাসিন ভ্যালেরি গোল করে ফর্টিজকে তুলে নেন পয়েন্ট টেবিলের চারে। আট ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৯। এক ম্যাচ কম খেলা চট্টগ্রাম আবাহনী ও শেখ জামালেরও আছে সমান সংগ্রহ। অন্যদিকে সাত পয়েন্ট নিয়ে পুলিশকে থাকতে হচ্ছে আটে।