ভয়াবহ পরিস্থিতি রাফাহতে, অভিযানের বিরুদ্ধে পশ্চিমারা

গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফাহতে ইসরায়েলের হামলার পরিকল্পনার পর থেকেই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে সেখানকার পরিস্থিতি। ক্ষুধার্থ ও আতঙ্কিত অবস্থায় দিন পার করছে সেখানকার বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো। খাবারের জন্য মরিয়া হয়ে ‍উঠেছে তারা,

জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা (ওসিএইচএ) এর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানায় কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।

ওসিএইচএ তাদের সর্বশেষ দৈনিক আপডেটে জানিয়েছে যে, অত্যন্ত করুণ ও মানবিক সংকটে রয়েছে রাফাহ শহরের মানুষজন। খাবারের জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছে না তারা। ত্রাণবাহী ট্রাক দেখামাত্রই সেগুলো থামাচ্ছে যেন সঙ্গে সঙ্গেই সেখান থেকে খাবার নিয়ে খেতে পারে।

সংস্থাটি বলছে যে তারা দক্ষিণ গাজার উপচে পড়া শহরটিতে মানবিক সংকটের মধ্যেই আতঙ্কিত জনগণের মধ্যে ক্ষুধার কারণে তীব্র হতাশা তৈরি হয়েছে। গাজায় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে জনাকীর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং সেখানকার লোকজনের জরুরি ভিত্তিতে খাবার প্রয়োজন। তারা ক্ষুধার্ত এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, শহরটির সম্পূর্ণ জনসংখ্যার পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা নিশ্চিতে গাজায় আরও ত্রাণবাহী ট্রাকে খাবার সরবরাহ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

শুধুমাত্র রাফাহ এবং কেরেম শালোম (কারেম আবু সালেম) ক্রসিং দিয়ে ত্রাণ সহায়তা গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করতে পারছে। ফলে মধ্য এবং উত্তর গাজায় খাদ্য সরবরাহ করতে হলে প্রথমে রাফাহ দিয়েই প্রবেশ করতে হয়। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আশদোদ বন্দর দিয়ে গাজা উপত্যকার জন্য পাঠানো আটার একটি বড় চালান আটকে দিয়েছে।

অন্যদিকে রাফা এলাকায় সেনা অভিযান না চালাতে বহুমুখী চাপের মুখে পড়ছে ইসরায়েল। এ অভিযানের সমর্থন দিচ্ছে না তাদের পশ্চিমা মিত্ররাও। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানিসহ অনেক দেশ ইসরায়েলকে এ অভিযানের বিষয়ে সতর্ক করেছে।

তারপরেও রাফাহতে হামলার বিষয়ে অনড় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।