গতকাল শুক্রবার রাশিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমালোচক অ্যালেক্সি নাভালনি মারা গেছেন। কারাগারে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছিল রুশ কর্তৃপক্ষ।
রাশিয়ার বিরোধী দলীয় সমাজের প্রধান ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন নাভালনি। তার সমর্থকরা তাকে ‘রাশিয়ার নেলসন ম্যান্ডেলা’ হিসেবে অভিহিত করতেন। তাদের আশা ছিল, নাভালনি এক সময় জেল থেকে মুক্তি পাবেন এবং ক্ষমতায় আসবেন। কিন্তু সে আশা আর পূরণ হল না।
তবে অ্যালেক্সি নাভালনি প্রথম ব্যক্তি নন যিনি পুতিনের সমালোচনায় বা বিরোধিতায় মৃত্যুর মুখে পতিত হয়েছেন। আরও এমন অনেক পুতিন সমালোচক বা মিত্র থেকে হুমকি হয়ে উঠেছেন এমন ব্যক্তি বা যারা ক্রেমলিনকে অপমান করেছেন, তারা সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে মারা গেছেন।
এছাড়া এক সময় পুতিনের মিত্র থাকা ব্যক্তিরাও এই তালিকায় রয়েছেন।
১. প্রেসিডেন্ট পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির সদস্য পাভেল আন্তভ (৬৫) যিনি "সসেজ টাইকুন" নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ২০২২ সালে ভারতের একটি হোটেলের জানালা থেকে পড়ে মারা গিয়েছিলেন। তিনি হোয়াটসঅ্যাপে ইউক্রেন যুদ্ধের সমালোচনা করেছিলেন, যদিও পরে তা অস্বীকার করেন তিনি।
তার মৃত্যুর সময় তার সাথে থাকা এক বন্ধু ভ্লাদিমির বুদানভও একই হোটেলে মারা যান।
২. কয়েক মাস আগে রাশিয়ার বৃহৎ তেল কোম্পানি লুকোইলের প্রধান রাভিল ম্যাগানভ মস্কোর একটি হাসপাতালের জানালা থেকে পরে গিয়ে মারা যান। পাভেল আন্তভের মত তিনিও ইউক্রেনের যুদ্ধের সমালোচনা করেছিলেন। অথচ তিন বছর আগেও তাকে রুশ প্রেসিডেন্ট আজীবন সম্মাননা প্রদান করেছিলেন।
৩. রাশিয়ার ক্যারিশম্যাটিক বিরোধী নেতা বরিস নেমতসভ, যিনি ১৯৯০ এর দশকে দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০১৫ সালে আততায়ীদের গুলিতে নিহত হন। ক্রেমলিনের সামনে তার পিঠে চারবার গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল তাকে।
৪. রাশিয়ার একজন সাংবাদিক আন্না পলিটকভস্কায়া। ভ্লাদিমির পুতিনের অধীনে থাকা রাশিয়ার পুলিশ স্টেট সম্পর্কে বই লিখেছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে ভাড়াটে হত্যাকারীদের দ্বারা নিহত হন তিনি। সে সময় জানা যায় যে, হত্যাকারীদের "অজানা একজন ব্যক্তি" অর্থ প্রদান করেছিল।
পরবর্তীতে তার একজন হত্যাকারী ইউক্রেনে যুদ্ধ করেছিল এবং বর্তমানে তাকে ক্ষমা করা হয়েছে।
৫. আলেকজান্ডার লিটভিনেঙ্কো, সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধান নিরাপত্তা সংস্থার একজন সাবেক এজেন্ট ছিলেন তিনি। পাশাপাশি কট্টর পুতিন সমালোচক ও ছিলেন। ২০০৬ সালে লন্ডনে এক কাপ চা খাওয়ার তিন সপ্তাহ পরে মারা যান তিনি।
জানা যায়, সেই চা মারাত্মক তেজস্ক্রিয় উপাদান পোলোনিয়াম-২১০ দিয়ে তৈরি ছিল।
পরবর্তীতে এক ব্রিটিশ তদন্তে বলা হয় যে, লিটভিনেঙ্কোকে রাশিয়ান ফেডারেশনের ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস আন্দ্রেই লুগোভয় এবং দিমিত্রি কোভতুন চায়ের সাথে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করেছিল।
ধারণা করা হয় আন্দ্রেই এবং দিমিত্রি পুতিনের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। তবে ক্রেমলিন কখনোই মৃত্যুর বিষয়ে মন্তব্য করে না এবং জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে।