মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বগুড়ার ধুনটের জমজ তিন ভাই এর পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা পুলিশ। তাদের দুই ভাইয়ের ভর্তি হতে যা অর্থ লাগবে তা প্রদান করবেন পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি) সুদীপ কুমার। অপর ভাই যেহেতু গত বছর ভর্তি হয়েছেন তাকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের কথা বলেছেন পুলিশ সুপার।
আজ শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে পুলিশ সুপার বিষয়টি জানান। এসময় তিন জমজ ভাইয়ের মধ্যে মাফিউল হাসান, সাফিউল হাসানসহ তাদের মা আর্জিনা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সুপার দুই মেধাবী ভাই ও তার মাকে ফুলেল শুভেচ্ছাসহ উপহার সামগ্রী প্রদান করেন।
সাফিউল হাসান বলেন, মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রমে তারা আজ মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন। পুলিশ সুপারের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
মাফিউল হাসান বলেন, পুলিশ সুপার আমাদের ডেকেছেন, এটা আনন্দের। এসপি মহোদয়ের উপহার ও তার পাশে থাকার আশ্বাস আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা যোগাবে।
সুদীপ কুমার বলেন, তারা পড়াশুনা করে ভালো চিকিৎসক হয়ে মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করবে বলে প্রত্যাশা করি। তাদের তিন ভাইয়ের পাশে জেলা পুলিশ ও তিনি ব্যক্তিগতভাবে সব সময় থাকবেন।
উল্লেখ্য, বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার বথুয়াবাড়ি গ্রামের জমজতিন ভাই মাফিউল হাসান, সাফিউল হাসান ও রাফিউল হাসান। ২০০৪ সালের ৩০ নভেম্বর স্কুলশিক্ষক গোলাম মোস্তফা ও আর্জিনা বেগম দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় জমজ তিন ভাই। তিন ভাইয়ের মধ্যে সাফিউল বড়, তারপর কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জন্ম নেয় মাফিউল ও রাফিউল। ২০০৯ সালে তাদের বাবা হৃদরোগে মারা গেলেও মা আর্জিনা বেগম জমি বিক্রি করে তাদের পড়ালেখার হাল ধরেন।
৫ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর জমি বিক্রির টাকা আর মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রমে সফলতার মুখ দেখেন তারা। বাবা মারা যাওয়ার পর তিন সন্তানকে পড়ালেখা করানো নিয়ে বিপাকে পড়লেও নিজে কষ্ট করে এবং জমি বিক্রি করে ওদের পড়ালেখা করিয়েছেন মা আর্জিনা বেগম। প্রায় পাঁচ বিঘা জমিসহ আর্জিনা বেগম বাবার বাড়ির জমির অধিকাংশই বিক্রি করে সন্তানদের পড়াশুনার খরচ যোগান। জমজ তিন ভাই এসএসসি পরীক্ষাতে জিপিএ-৫ পেলেও এইচএসসিতে তিন ভাইয়ের মধ্যে সাফি জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে বঞ্চিত হয়। পরে তারা গত বছর একসাথে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দিলে শুধু মাফিউল ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে চান্স পায়। এবারে সাফিউল দিনাজপুর মেডিকেলে ও রাফিউল হাসান নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে।
তারা ধুনট নবির উদ্দিন পাইলট হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও পরে বগুড়া সরকারি কলেজ শাহ সুলতান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন।