নেত্রকোণার সীমান্ত উপজেলা কলমাকান্দার শেষ গ্রাম লেংগুড়া। আর এ গ্রামের বুক চিরে নেমে এসেছে ভারতের মেঘালয় রাজ্য পাহাড়ি গণেশ্বরী নদী। যার স্বচ্ছ পানি মন কাড়ে পর্যটকসহ স্থানীয়দেরও। গণেশ্বরী নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি)। এ প্রকল্পে নির্মাণ হওয়ায় পাল্টে গেছে এলাকার চিত্র। পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকরা যেমন বোরো চাষে সুফল পাচ্ছেন। তেমনি পর্যটন এলাকা লেঙ্গুরার সীমান্তে সৌন্দর্য্য বেড়েছে বহুগুণ। ওই এলাকার প্রায় দুই হাজার কৃষকের বোরো আবাদে খরচও কমেছে অনেকাংশে। অনাবাদি জমি এসেছে চাষের আওতায়। শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে জ্বালানি ব্যয়। উৎপাদন ব্যয় কম হওয়ায় ফসল বিক্রিতেও অধিক লাভের মুখ দেখছেন তারা।
নেত্রকোণা বিএডিসি কার্যলয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের উদ্যোগে ২০১৯ সালে রাবার ড্যাম নির্মাণ কাজ শুরু হয়। রাবার ড্যামের ব্যয় ধরা হয় ১৬ কোটি টাকা। ভূ-উপরিস্থ পানি ধরে রাখতে ১০১ মিটার দৈঘ্যের এবং ৩ মিটার উচ্চতার এই ড্যাম। ২০২১ সালে রাবার ড্যাম নির্মাণ কাজ শেষ হয়। যা থেকে পার সেকেন্ডে ২৮ লিটার অর্থাৎ এক কিউসেক পানি প্রবাহিত হয়। যার পুরোটাই কৃষকরা পায় বিনামূল্যে।
জানা যায়, রাবার ড্যাম নির্মাণের আগে এ অঞ্চলের জীবন জীবিকার জন্য লড়াই করেই উপার্জনের বড় অংশ খরচ হয়ে যেতো। বোরো চাষে সেচের পানির জন্য পোহাতে হতো নানা ঝক্কি-ঝামেলা। গণেশ্বরী নদী পাহাড়ি ঢলে বেপরোয়া থাকলেও শুকনো মৌসুমে পানি কমে যেত। সেচের জন্য পানি আটকাতে নদীতে বালুর বাঁধ দিতে হতো। না হয় শ্যালো মেশিনে সেচের ব্যবস্থা করতেন কৃষকরা। বালুর বাঁধ নির্মাণে খরচ হতো কৃষকদের লাখ লাখ টাকা। যা আবার বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের সাথে ভেসে যেতো। এ এলাকায় কৃষিপণ্য উৎপাদন করা ব্যয়ের তুলনায় সামান্য। এ রকম পরিস্থিতি হওয়ায় অনেকেই ছেড়ে দিয়েছিলেন বোরো আবাদ।
দুই হাজার হেক্টর জমি চাষের আওতায় আনতে রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভূ-উপরিস্থ পানি ধরে রাখতে ১০১ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩ মিটার উচ্চতার এই ড্যাম। পানি গ্রাভিটি ফ্লোরের মাধ্যমে সরাসরি পাকা সেচ নালা দিয়ে যাচ্ছে কৃষকের জমিতে। ৫টি স্লুইস গেট ধারা পানি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এবার এই লেঙ্গুরাতেই ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৫ মেট্রিক টন করে ফসল উৎপাদন হয়। হিসেব অনুযায়ী ৩ হাজার মেট্রিকটন খ্যাদ্যশস্য উৎপাদিত হচ্ছে। নভেম্বর থেকে শুরু করে এপ্রিল পর্যন্ত চালু থাকা এই ড্যামে বৃষ্টি বা কোনো কারণে পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে তখন সেটিকে ছেড়ে দেয়া হয়।
নেত্রকোনা বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান জানান, ২ হাজার হেক্টর জমি চাষের আওতায় আনতে এই ড্যাম করা হয়েছে। পানি গ্রাভিটি ফ্লোরের মাধ্যমে সরাসরি পাকা সেচ নালা দিয়ে যাচ্ছে কৃষকের জমিতে। এবার লেঙ্গুরাতেই ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এতে করে অতিরিক্ত অড়াই কোটি টাকার ফসল উৎপাদন হয়। এছাড়াও সবজি তো আছেই।
তিনি আরও বলেন, ৫ কিলোমিটার সেচনালা নির্মাণ করলে ১২০০ হেক্টর জমি সেচ দেয়া সম্ভব হবে। ড্যামে সেচ ছাড়াও শুকনো সময়ে প্রাকৃতিক উপায়ে পাওয়া পানি কাজে লাগাচ্ছেন স্থানীয়রা। ড্যামের জন্য সেতু নির্মাণ হওয়ায় ওই এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে।