আইসিজে শুনানি

ইসরায়েলি দখলদারির অবসান চায় ফিলিস্তিন, দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে বাংলাদেশ

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বৈধতা নিয়ে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) ঐতিহাসিক শুনানি শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার প্রথম দিনের শুনানিতে অংশ নিয়ে অবিলম্বে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের অবসানের দাবি জানিয়েছে ফিলিস্তিন।

সোমবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে অবস্থিত জাতিসংঘের সর্বোচ্চ ওই আদালতে শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ মালকি এবং জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের দূত রিয়াদ মনসুরসহ কয়েকজন আইনজীবী অংশ নেন।

মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, সৌদি আরব, কানাডা, বেলজিয়ামসহ ১১টি দেশ অংশগ্রহণ করবে। খবর আল জাজিরা।

২৬ তারিখ পর্যন্ত এ শুনানি চলবে যাতে বাংলাদেশসহ ৫২টি দেশ ও ৩টি সংগঠন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে।

এই মামলাটি গাজায় চলমান যুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইসিজে-তে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা গণহত্যার মামলা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ইসরায়েলের দখলদারি, অবৈধ বসতি স্থাপন ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করার অপতৎপরতা পর্যালোচনা করতে ২০২২ সালে আইসিজের প্রতি ওই আহ্বান জানিয়েছিল সাধারণ পরিষদ। সেই আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে আইসিজেতে এ শুনানি শুরু হলো

১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েলের দখলে থাকা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে আইসিজের নির্দেশনা ও মতামত চেয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। তবে আইসিজে এ নিয়ে কোনো নির্দেশনা বা মতামত দিলে তা মানার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।

সোমবার আইসিজের শুনানির প্রথম দিনে শুধুমাত্র ফিলিস্তিনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। শুনানিতে অংশ নিয়ে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকি বলেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে ইসরায়েল বৈষম্য ও জাতিবিদ্বেষী অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এতে ফিলিস্তিনিরা পরাধীনতা, উদ্বাস্তু জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘অবৈধ দখলদারি নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনে একটাই সমাধানের কথা বলা রয়েছে। সেই সমাধান হলো অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে দখলদারত্বের সম্পূর্ণ অবসান।‘