দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় নৌবাহিনী গঠনের পরিকল্পনা অস্ট্রেলিয়ার

সাগর পথে শক্তি বাড়াতে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নৌশক্তি বাড়াতে আগামী ১০ বছরে নিজেদের রণতরীর বহর দ্বিগুণ করবে দেশটি। অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের সবচেয়ে বড় নৌবাহিনী গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ১০ বছরে অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর শক্তি বাড়াতে ৩৫০০ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের সাথে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণেই এ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটি।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস জানান, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশটিতে যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ১১ থেকে বাড়িয়ে ২৬টি করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের রণতরী নিজেদের বহরে যোগ করবে অস্ট্রেলিয়া।

তিনি আরও জানান, অস্ট্রেলিয়া ছয়টি হান্টার ক্লাস ফ্রিগেট, ১১টি সাধারণ ফ্রিগেট, তিনটি যুদ্ধ বিমান ধ্বংসকারী জাহাজ এবং ছয়টি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ নৌবহরে যোগ করবে। এছাড়া অন্ততপক্ষে কিছু নৌবহরকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করা হবে যা শত্রু অঞ্চলের গভীর লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার হামলা চালাতে সক্ষম।  

তিনি বলেন, আমাদের এখন যে সামরিক শক্তি আছে তার তুলনায় ত্রিশের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তা নাটকীয়ভাবে ভিন্ন হবে। এটাই আমরা পরিকল্পনা করছি এবং এটিই আমরা তৈরি করছি। এ সময় এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র এবং চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ায় ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

এছাড়া অস্ট্রেলিয়ান নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস অ্যাডম. মার্ক হ্যামন্ড জানান, নৌবহরকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনার মধ্যে আরও রয়েছে ২০টি ডেস্ট্রয়ার এবং ফ্রিগেট এবং ছয়টি বড় ক্রুড সারফেস ভেসেল, যা নাবিকদের সাথে ড্রোন হিসাবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।

এক বিবৃতিতে দেশটির নৌপ্রধান বলেন, “একটি শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া একটি শক্তিশালী নৌবাহিনীর উপর নির্ভর করে। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত করতে, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে ঠেকাতে আমাদের শক্তিশালী নৌবাহিনী প্রয়োজন”।