সুন্নতে খতনা করাতে গিয়ে অ্যানেস্থেশিয়ার ভুল প্রয়োগে শিশু আয়ানের মৃত্যু নিয়ে চলমান বিতর্কে এবার রাজধানীতে আরেক যুবকের মৃত্যু ঘটেছে। গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি ল্যাবএইড হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) চিকিৎসাধীন অবস্থায় কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে রাহিব রেজা (৩১) নামক এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
রাহিব গ্যাসের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসার জন্য ল্যাবএইড হাসপাতালে অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের কাছে যান। তিনি রাহিবকে এন্ডোস্কোপি করানোর পরামর্শ দেন।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, অধ্যাপক স্বপ্নীল হাসপাতালে এসে রোগীর পরীক্ষার রিপোর্ট না দেখেই অ্যানেস্থেশিয়া প্রয়োগ করেন। অ্যানেস্থেশিয়ার ভুল প্রয়োগের কারণেই তার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় এবং মৃত্যু হয়।
অধ্যাপক ডা. স্বপ্নীল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি ২০০৬ সাল থেকে গত ১৮ বছর ধরে ল্যাবএইড হাসপাতালে প্রাইভেট চেম্বার করে আসছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই রোগীকে ঘুম পাড়িয়ে এন্ডোস্কোপি করেছি, কোনো অ্যানেস্থেশিয়া দিইনি। এন্ডোস্কপি শেষ করার পরও তার কোনো জটিলতা দেখা যায়নি। এরপর যখন অন্য রুমে নেওয়া হয় এর কিছুক্ষণ পর নার্সরা জানান রোগীর পালস পাওয়া যাচ্ছে না, অক্সিজেন পাচ্ছে না, তার অবস্থা খারাপ হচ্ছে। এ সময় তার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে।
তিনি বলেন, আমি গত ২০ বছর ধরে চিকিৎসা পেশায় আছি। ল্যাব এইডের একই কক্ষে বসে গত ১৮ বছর ধরে প্রাইভেট চেম্বার করছি। আমার বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলার কোনো প্রমাণ নেই।
একটা রোগী মারা যাওয়া চিকিৎসকের জন্য বেদনার উল্লেখ করে ডা. স্বপ্নীল বলেন, এই বয়সে একটা ছেলে মারা গেছে আমি সত্যিই ব্যথিত। আমি যে কয়দিন রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিল তার নিয়মিত খবর নিয়েছি। শুরুতে তার অবস্থা খারাপ হলে তার স্বজনদের জানাই এবং আইসিইউতে নেওয়ার কথা বলি। তার চিকিৎসায় ছয় সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন পর্যন্ত করা হয়েছিল। এই ছয়জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা দিয়েছেন। আপনি তাদের সঙ্গে কথা বললেই জানতে পারবেন আমার কোনো অবহেলা ছিল না।
এদিকে ল্যাবএইড হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা চৌধুরী মেহের-এ-খোদা একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এন্ডোস্কোপির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের তত্ত্বাবধানে হয়েছে। যে অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট অ্যানেস্থেশিয়া দিয়েছেন, তিনি ডা. স্বপ্নীলের ব্যক্তিগত অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট। তিনি আমাদের হাসপাতালের কেউ নন।
এ বিষয়ে ডাক্তার স্বপ্নিল বলেন, এ কথা কে বলেছেন আমি জানি না। তিনি সত্য তথ্য দেননি।