রাজধানীবাসীর যানজট থেকে মুক্তি পেতে মেট্রোরেল অনেকটা আস্থার বাহন। স্টেশনে পৌঁছে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেই চলে আসে ট্রেন। কিন্তু মেট্রোরেলের টিকিট কাটতে এখনও যাত্রীদের পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। ট্রেনের টিকিটের জন্য ভাংতি টাকার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা হয়রানির স্বীকার হতে দেখা যায় যাত্রীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেট্রোরেলের টিকিট কাটার জন্য যে মেশিন আছে , সেখানে ভাংতি টাকার জন্য লাইনে দাড়িয়ে থাকতে হয়। ১০০ টাকার নোট দিলেও অনেক সময় ভাংতি পাওয়া যায় না। আর মেশিনের সামনে লোকবল ঘাটতি থাকায় প্রায়ই হট্টগোল লেগে থাকে।
সরেজমিন মেট্রোরেলের মতিঝিল থেকে উওরা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্টেশনে দেখা যায়, টিকিট কাটার দীর্ঘ লাইন। যাত্রীরা ভাংতি টাকা না থাকায় এক লাইন থেকে অন্য লাইনে গিয়ে ছুটোছুটি করছে। তবে টিকিট কাটার মেশিনের সামনে বেশিরভাগ স্টেশনে মেট্রোরেলের কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত লোকের সঙ্কট দেখা যায়।
মিরপুর পল্লবী স্টেশনে এক ঘণ্টার মতো দাড়িয়ে থাকা মো. আজিজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মিরপুর থেকে মতিঝিলে বাসে গেলে ২ ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়। যার জন্য এখন মেট্রোরেল দিয়ে যাতায়াত করা হয়। কিন্তু মেট্রোরেলের অব্যবস্থাপনার জন্য সুন্দর এই সেবা ম্লান হয়ে যাচ্ছে। সামান্য ভাংতির জন্য এক ঘণ্টার মতো সময় লেগে গেল।’
সরকারি একটি দপ্তরের কর্মকর্তা মো. জুয়েল রানা বলেন, মিরপুর এলাকায় দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বসবাস করছি। এই মেট্রোরেল এখন মিরপুর এলাকার বাসিন্দাদের কাছে আস্থার বাহন হয়ে উঠেছে। তবে অফিস শেষ করে সচিবালয় স্টেশনে টিকিট কাটতে এসে দেখি ভাংতি নেই। প্রায় ৪০ মিনিটের মতো অপেক্ষা করতে হয়েছে ভাংতির জন্য। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের উচিত এসব সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা। তা না হলে সুন্দর এই সেবাটির প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলবে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করি টিকিট মেশিনে ভাংতি রাখার। কিন্তু সবাই যদি বড় নোট দিয়ে দেয় তাহলে এতো যাত্রীদের ভাংতি তো সব সময় দেওয়া যায় না। তাছাড়া কেউ যদি ভাংতির জন্য টিকিট কাটতে না পারে, তাহলে তাকে আমাদের কাউন্টার আছে সেখানে গেলে সে ভাংতি পেয়ে যাবে বলে জানান তিনি।
সার্বিক বিষয়ে বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দিন দিন মেট্রোরেলের চাহিদা বাড়ছে। প্রথমে যাত্রীদেরকেও আমি সচতেন হতে বলবো। তারা যেন যাত্রা সমপরিমাণ টাকা ভাংতি নিয়ে মেট্রোতে যায়। এছাড়া দেশের বেশিরভাগ মানুষের মোবাইল ফোনে এনএফসি সিস্টেম আছে, যার মাধ্যমে মোবাইলে সব কাজ করা যায়। আর স্টেশনে গিয়ে রিচার্জ পদ্ধতিটাও যাত্রীদের জন্য ভোগান্তির কারণ। মোবাইল ব্যাংকিং ও ই-ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রিচার্জের সিস্টেম চালু করা দরকার। সেই সঙ্গে মেট্রোরেলের নিজস্ব একটি সার্ভার ও মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে যাত্রীরা যেন সব কাজ করতে পারে সে ব্যবস্থা থাকা দরকার। তাহলে যাত্রীদের জন্য চলাচল আরও বেশি সহজ হবে বলে জানান তিনি।’