রাজবাড়ী শহরের শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দেওয়ার পর সেই ফুল ও ফুলের ডালা নিয়ে যাচ্ছিল ফুলের দোকানিরা। এই দৃশ্য ভিডিও করায় ওপর হামলা করার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিকের নাম আবদুল হালিম বাবু। তিনি দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার রাজবাড়ী প্রতিনিধি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি দুপুর ১২টার কিছু সময় আগে রাজবাড়ী শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান। এ সময় শহীদ মিনারের বেদি/পাদদেশ থেকে ফুলের ডালা নিয়ে যাচ্ছিল কয়েকজন যুবক। তিনি বিষয়টি ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিও করা দেখে কয়েকজন এগিয়ে আসেন। তারা ভিডিও করার কারণ জানতে চান। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর ভিডিও ডিলিট করতে বলেন। তিনি ভিডিও ডিলিট করতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় তাকে টেনে হিঁচড়ে শহীদ মিনারের পশ্চিম পাশে নিয়ে যায়। তার ওপর কয়েকজন অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। হামলাকারী তাকে কিল–ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে।
একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা সেখানে আসলে হামলাকারীরা দৌঁড়ে পালিয়ে যান। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তাকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক আবদুল হালিম বাবু বলেন, ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারের বেদিতে সাধারণত ফুলের ডালা সুন্দর ভাবে সাজিয়ে রাখা হয়। আমি পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য শহীদ মিনারে গিয়ে ছিলাম। হামলাকারীরা ১০-১২ জন ছিল। এ বিষয়ে থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেছি।
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নুরুল ইসলাম আজম বলেন, তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। চোখের পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। চোখের ডাক্তারের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।
পুলিশ সুপার জি এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। ভুক্তভোগীকে থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শহীদ মিনার থেকে আমরা ফুল নেওয়ার জন্য কাউকে কোনো অনুমতি দেই নাই। শহীদ মিনারে ২১ শে ফেব্রুয়ারি সারাদিন ফুলগুলো সাজিয়ে রাখা হয়। এগুলো শুকিয়ে গেলে সরিয়ে ফেলা হয়।