জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীর প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। যা চলবে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আগামীকাল (২২ ফেব্রুয়ারি) ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজি (আইআইটি) এবং গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদভুক্ত 'এ' ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হবে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ।
প্রথম দিন বৃহস্পতিবার 'এ' ইউনিটের প্রথম শিফট শুরু হবে সকাল ৯ টায়। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে ষষ্ঠ শিফটের পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হবে ৫টা ৪০ মিনিটে। ওই দিন প্রথম দুই শিফটে ছাত্রীদের ও শেষ চার শিফটে ছাত্রদের পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
২৫ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) সকাল ৯টা হতে ১০টা পর্যন্ত ১ম শিফটে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ এবং চারুকলা বিভাগ অর্থাৎ ‘সি’ (১) ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরে ২য় শিফটে সকাল ১০টা ২৫ মিনিট থেকে ষষ্ঠ শিফটে বিকেল ৫টা ৪০মিনিট পর্যন্ত প্রতি শিফটে ১ ঘন্টা করে সর্বমোট ৫ টি শিফটে বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট এবং কলা ও মানবিক অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
২৭ ফেব্রুয়ারি ও ২৮ ফেব্রুয়ারি জীববিজ্ঞান অনুষদভুক্ত 'ডি' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার ও বুধবার দুইদিন ছাত্রী ও ছাত্রদের সকাল ৯টা হতে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত চারটি করে ৮টি শিফটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
২৯ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ -জেইউ), সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ও আইন অনুষদভুক্ত 'বি' ইউনিট এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভ্ক্তু 'ই' ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা শেষ হবে। ওইদিন সকাল ৯টা হতে ১১টা ২৫মিনিট পর্যন্ত প্রথম দুই শিফটে যথাক্রমে ছাত্রী ও ছাত্রদের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ও আইন অনুষদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তৃতীয় শিফটে সকাল ১১টা ৫০ হতে ১২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত আইবিএ-জেইউ এর ছাত্র ও ছাত্রীদের পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। চতুর্থ ও পঞ্চম শিফটে বেলা ১টা ৫০ হতে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ছাত্রী ও ছাত্রদের পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া ৩ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে সকাল ১০টা হতে 'সি-১ ইউনিটভুক্ত নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষা, ৫ মার্চ সকাল ১১টা হতে ১২টা পর্যন্ত একই ইউনিটের চারুকলা বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শুধুমাত্র নৈর্ব্যক্তিক পরিক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ওই ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে মোট আসন সংখ্যা ১ হাজার ৮৪৪টি। এর মধ্যে ছাত্রদের আসন ৯২২টি এবং ছাত্রীদের আসন ৯২২টি। ছাত্র ও ছাত্রীদের সর্বমোট আবেদন জমা পড়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৫১টি।
এ বছর ভর্তি পরিক্ষায় সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে জীববিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ' ডি' ইউনিটে। এই ইউনিটে ছাত্র ও ছাত্রীদের ১৫৫টি করে সর্বমোট আসন সংখ্যা ৩১০টি। এর বিপরীতে ৩২ হাজার ৯৫জন ছাত্র এবং ৩৭ হাজার ৩২১ জন ছাত্রী আবেদন করেছেন। সর্বমোট ৬৯ হাজার ৪১৬ জন শিক্ষার্থীর আবেদন জমা পড়েছে। অর্থাৎ ছাত্রদের প্রতি আসনে লড়বেন ২০৭ জন এবং ছাত্রীদের প্রতি আসনের জন্য ২৪১জন প্রতিদ্বন্দিতা করবেন।
সবচেয়ে কম আবেদন জমা পড়েছে ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে (আইবিএ-জেইউ)। আইবিএ তে ভর্তির জন্য ছাত্রদের ও ছাত্রীদের ২৫টি করে সর্বমোট ৫০টি আসনের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা ২ হাজার ২৬০জন ছাত্র এবং ১ হাজার ২৮৬ জন ছাত্রী। সর্বমোট ৩ হাজার ৫৪৬জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর আবেদন জমা পড়েছে। অর্থাৎ ছাত্রদের প্রতি আসনে লড়বেন ৯০ জন এবং ছাত্রীদের প্রতি আসনে লড়বেন ৫১ জন।
ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজি (আইআইটি) এবং গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদভুক্ত 'এ' ইউনিটে ২২৩টি ছাত্রদের এবং ২২৩টি ছাত্রীদের আসনের বিপরীতে মোট ৩৩ হাজার ৭০৫জন ছাত্র এবং ১৬ হাজার ৭১১ জন ছাত্রী আবেদন করেছেন। সর্বমোট ৫০ হাজার ৪১৬ জন শিক্ষার্থীর আবেদন জমা পড়েছে। এই ইউনিটে ছাত্রদের প্রতি আসনে লড়বেন ৪১ জন এবং ছাত্রীদের প্রতি আসনে ৫১জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
নাটক ও নাট্যতত্ত্ব ও চারুকলা বিভাগভুক্ত 'সি-১' ইউনিটে। এই ইউনিটে ছাত্রদের ও ছাত্রীদের ৩২টি করে সর্বমোট ৬৪টি আসনের বিপরীতে ১ হাজার ৮৯৫জন ছাত্র এবং ২ হাজার ৩৩৪জন ছাত্রীর আবেদন জমা পড়েছে। সর্বমোট ৪ হাজার ২২৯ টি আবেদন জমা পড়েছে। অর্থাৎ ছাত্রদের প্রতি আসনে লড়বেন ৫৯জন এবং ছাত্রীদের প্রতি আসনের জন্য ৭২ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট এবং কলা ও মানবিকী অনুষদভুক্ত 'সি' ইউনিটে ছাত্র ও ছাত্রীদের ১৯৪টি করে সর্বমোট ৩৮৮ টি আসন রয়েছে। এর বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৬৬জন ছাত্র এবং ২১ হাজার ৭৭৯জন ছাত্রী। এই ইউনিটে ছাত্রদের প্রতি আসনে লড়বেন ৯৩ জন এবং ছাত্রীদের প্রতি আসনে ১১২জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এছাড়া সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ও আইন অনুষদভুক্ত 'বি' ইউনিটে ছাত্র ও ছাত্রীদের ১৯৩ টি করে সর্বমোট আসন ৩৮৬ টি। এর বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা ৭ হাজার ৮৩০ জন ছাত্র এবং ৯ হাজার ৮৮৬ জন ছাত্রী। এই ইউনিটে ছাত্রদের প্রতি আসনে লড়বেন ৪১ জন এবং ছাত্রীদের প্রতি আসনের জন্য লড়বেন ৫১ জন।
ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত 'ই' ইউনিটে ছাত্র ও ছাত্রীদের ১০০টি করে সর্বমোট ২০০টি আসনের বিপরীতে ৭ হাজার ১৫৪ জন ছাত্র এবং ৫ হাজার ৫২৯ জন ছাত্রী আবেদন করেছেন। সর্বমোট আবেদন জমা পড়েছে ১২ হাজার ৬৮৩টি। এই ইউনিটে ছাত্রদের প্রতি আসনে লড়বেন ৭২ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী এবং ছাত্রীদের প্রতি আসনে লড়বেন ৫৫ জন ভর্তিচ্ছু।
এদিকে ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ভর্তি পরিক্ষা শুরুর দিন থেকে শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রধান ফটক, বিশমাইল ফটক, জয় বাংলা ফটক সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে প্রতিদিন রাতে পুলিশ টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সার্বিক নিরাপত্তা দিতে প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে রোভার স্কাউট সদস্য, সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় ১৫০ জন পোশাকধারী ও সাদা পোশাকধারী পুলিশ ফোর্স এবং অতিরিক্ত ৬০ জন আনসার সদস্য ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করবেন। ভর্তিচ্ছুদের সহায়তায় বিভিন্ন ভবনে ৬০ জন বিএনসিসি ও ৬০ রোভার স্কাউট সদস্য নিজস্ব পোশাকে শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (ডেইরি গেট), জয়বাংলা ফটক (প্রান্তিক গেট) ও বিশমাইল ফটক সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ট্র্যাফিক পুলিশের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) চালু রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কতৃক অনুমোদনহীন অটো/ ব্যাটারি চালিত রিকশা চলাচলে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান ফটক (ডেইরি গেট) পর্যন্ত কোনো রিকশা চলাচল করবে না। ছাত্রী হল থেকে আসা রিকশাগুলো বীরপ্রতীক তারামন বিবি হলের সামনে (টারজান পয়েন্ট পর্যন্ত) থামবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবনের দিকে কোনো রিকশা চলাচল করবে না।
পরীক্ষার্থীদের গাড়ি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল গেট দিয়ে ঢুকবে এবং সেনওয়ালিয়া গেট দিয়ে বেরিয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি মীর মশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন গেট দিয়ে প্রবেশ করবে। বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজ মাঠ, রাঙামাটি পানির ট্যাংকের মাঠ, বিশমাইল খেলার মাঠসহ জাবি স্কুলকলেজ থেকে উত্তরদিকের সেনওয়ালিয়া পর্যন্ত অবস্থিত ফাঁকা জায়গাগুলো গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে ব্যবহৃত গাড়ি সকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে কোনো অস্থায়ী দোকান বসানো যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা, প্রধান ফটক ও জয়বাংলা ফটকসংলগ্ন খাবারের দোকানগুলো মনিটরিংয়ের জন্য সহকারী প্রক্টর ইখতিয়ার উদ্দিন ভুঁইয়াকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।