বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি'র (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ঢাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো ' বিল্ডিং মেন্টাল হেল্থ রেজিলিয়েন্স এগেইন্স সাইবারবুলিং অ্যান্ড অনলাইন হার্মস' শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা। স্মার্ট নাগরিক ও স্মার্ট সমাজ তৈরির মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে এই কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়টির তিন শতাধিক শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
কর্মশালায় সাইবারবুলিং এবং অনলাইনের অন্যান্য ক্ষতিকর প্রভাবের আঘাত সামলে কিভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়, নিজের মনের যত্ন এবং অন্যের প্রতি সহনশীল হওয়াসহ মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী পর্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব সামসুল আরেফিন অনলাইনে যুক্ত থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ শুধু ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়, পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও গ্রহণ করা দরকার। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে এমন উদ্যোগগুলোই সহায়ক হবে।
বিসিসি'র নির্বাহী পরিচালক রণজিৎ কুমার বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মশালা শুধু শিক্ষার্থীদের জন্যই নয় অভিভাবকদের জন্যও প্রয়োজন। সবাই মিলেই আমরা আমাদের সাইবার জগতকে ভালো রাখতে পারি'।
কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার হাসিনা মমতাজ, প্রথম আলোর ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ জাবেদ সুলতান পিয়াস, মনের বন্ধু’র লিড মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কাজি রুমানা হক প্রমুখ শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডা. হেলাল বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, “স্ট্রেঞ্জার ইজ আ ডেঞ্জার” । অনলাইনে আমরা বহু অপরিচিত মানুষের সামনে নিজেকে তুলে ধরি। তাই সাইবার দুনিয়ায় অচেনাদের নয়, বরং বন্ধুদের সহায়তায় নিজেকে ভালো রাখতে হবে।’
উল্লেখ, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।