ওইইংখ্রাআআআ
তারচেয়ে মাহুত হতাম যদি
বাচ্চা হাতির সাথে কাদাজলে খেলা করে
কেটে যেতো অলস দুপুর!
ছাইরঙা মন্থর পায়ে
গলার ঘণ্টাধ্বনি আর হারগোজ গাছের
খরখরে বাকলে
গা ঘষে ঘষে যূথচারী বেঢপ কপালে
নকশার আবির-ভালো ছিলো।
না হয় পেতাম যদি হাতির মতন
নিঃস্পৃহতা। শুয়োরের আস্ফালন,
বানরের অহেতুক লাফালাফি
আচানক হুঙ্কারে কেঁপে উঠতো বনভূমি :
ওইইংখ্রাআআআ!
ভয় পেয়ে উড়ে যেত তর্কপ্রিয়
ছাতারের দল!
হাত
না হয় পিঠে একটা হাত রাখো; হাতই তে
এটুকু সান্ত¡নাতেই দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে
সেরে উঠতে পারি। চোরাবালির গর্ত থেকে
টেনে তুলতে পারি নিজের অসাড় পা দুটো।
অনেক লোকের ভিড়ে নেমন্তন্ন বাড়িতে
কেবল চোখের ইশারায় বোলো, ‘খেয়ে যেও’
আমার তাতেই অনেক খাওয়া হয়ে যাবে।
গাঢ় চোখের শাসনে সবার সামনে শুধু
একটু বোলো, ‘আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিও’
আমি তাতেই চিন্তাশীল ভাস্কর্যের মতো
ঠায় বসে থাকব, তোমার না আসা পর্যন্ত!
ব্রিটিশ
ছ আনা দামের একখান বোটে চড়ে আর
এক পয়সার একখান রুটিটোস্ট খেয়ে
তারা এসে বললেন,
মা ন চি ত্রে র
এই অংশটা আমার; আজ থেকে
এটা আমি শাসন করব!
লন্ডনের যত কুলাঙ্গার অপগণ্ড বেকার
সবাই রাতারাতি ‘সাহেব’ বনে গেলেন
যত যত ন্যাকাষষ্ঠী মেমসাহেব।
আর আমরা বোচাকোদা
স র্ব সা ধা র ণ
অঢেল উপচেপড়া সম্পদের গড়িমায়
মহীয়ান নভিস নেটিভ
রায় খান বাহাদুর মহারাজা বিবিধ খেতাবে নিমজ্জিত।
ওদের ফ্যাকাশে-হলুদরঙা চামড়া দেখে
সাক্ষাৎ কার্তিক ঠাকুর ভেবে
পুজো করা আরম্ভ করলাম!
সেই থেকে শুরু...
মজু চৌধুরীর হাট
জলযানে দূর-দূরান্তের
দেহাতি বন্দরের নাম লেখা।
মনে হয়, এক টুকরো মফস্বল
তুলে এনে বিছিয়ে রেখেছে
আরবান শহরের চওড়া চাতালে।
সাদামাটা সেসব হাটে
কী কী পণ্য বেচাকেনা হয়
তার ঘ্রাণ বয়ে আনে নামগুলি, আহা!
নামের ভেতরে খুঁজি প্রান্তিক মানুষের মুখ।
একদিন ওই হাটে সত্যিই যাবো,
হয়তো যাবো না। টার্মিনালে গিয়ে শুধু
দেখে আসবো লঞ্চের গায়ে
নীল রঙে বড় করে লেখা
রায়পাশা-উলানিয়া-মজু চৌধুরীর হাট!