জবিতে হিযবুত তাহরীরের লিফলেট বিতরণকালে ঢাবি ছাত্র আটক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ হিযবুত তাহরীরের এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে লিফলেট ও চিঠি বিতরণের সময় এক শিক্ষকের সাথে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে ধরে ফেলা হয়। আটককৃত শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী।

আজ বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তাকে সকাল ৮টায় এক শিক্ষকের অফিসে চিঠি দেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা হয় বলে জানান তিনি।

প্রক্টর অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে লিফলেট বিতরণের সময় তাকে আটক করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা এ বিষয়ে মামলা করবেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি জানান, আটক ওই সদস্যের নাম অনিক খন্দকার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। তিনি ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষকদের কক্ষের দরজার নিচে দিয়ে কিছু ছেলে চিঠি দিচ্ছিল। এটা দেখতে পান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মিরাজ হোসেন। এসময় তিনি কথা বলতে গেলে তারা পালাতে শুরু করলে তার সাথে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে একজনকে আটক করা হয়।

তিনি জানান, আটক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সরকারবিরোধী লিফলেট, স্টিকার, তাদের সংগঠনের বিভিন্ন বক্তব্যসংবলিত চিঠি, একটি মোবাইল, ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামিতা নিয়ে লেখা একটি ডায়েরি পাওয়া গেছে।

ড. মো. মিরাজ হোসেন জানান, সকালে আমার অফিসের দরজার নিচ দিয়ে চিঠি দেওয়ার সময় সন্দেহের বশে আমি দরজা খুলে তিনজনকে দেখতে পাই। এর মধ্যে আমি একজনকে হাতেনাতে ধরি। আর বাকি দুজন পালিয়ে যায়। পরে আমি তাকে প্রক্টরিয়াল বডির হাতে তুলে দিই।

কোতোয়ালি থানাধীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই হাসান মাতুব্বর জানান, পালিয়ে যাওয়া হিজবুত তাহরীর অপর দুই সদস্য মুসাইব ও সিফাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। আটক অনিক খন্দকারকে কোতোয়ালি থানায় পাঠানো হয়েছে।