মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনে টিকেট কাটতে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তানজিলা ইসলাম রিমা। তার গন্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন। পাশের টিকেট মেশিনের লাইন পুরা ফাঁকা থাকলেও তিনি দাঁড়িয়েছেন কাউন্টারের লাইনে। তার সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, অনেকক্ষণ ধরেই দেখছি পাশের মেশিনটা নষ্ট। অনেকেই এসে চেষ্টা করে আবার কাউন্টারের লাইনে দাঁড়াচ্ছে। এটা চালু থাকলে এতক্ষণে আমার টিকেট কাটা হয়ে যেত।
কথা হয় অপর এক যাত্রী মারিয়াম আক্তারের সঙ্গে। তিনি যাবেন মতিঝিল। তিনিও একই অভিযোগ করে বলেন, প্রায় মেশিন নষ্ট থাকে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষ কোন অ্যাকশন নেয় না। এতে যাত্রীদের সমস্যা হয়। আবার ঘুরে কাউন্টারের লাইনে গিয়ে দাঁড়াতে হয়।
অপু পাল নামে উত্তরার এক মেট্রোযাত্রী বলেন, আমি জানতাম না ৫০০ টাকার নোটে টিকিট পাওয়া যায় না। প্রায় ১০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে মেশিনের কাছে এসে দেখি ৫০০ টাকার নোট মেশিন নিচ্ছে না। তিনটা টিকিট নেবো তাও সম্ভব হবে না। এখন গিয়ে আবারও হাতে হাতে টিকিট নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে।
মেট্রো চালু হওয়ার দিন থেকেই এই মেশিন নিয়ে অভিযোগ। প্রায় দিনই কোনো না কোনো স্টেশনে কোনো না কোনো মেশিন কিছু সময়ের জন্য অকার্যকর থাকছে। বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের সব স্টেশন রাত পর্যন্ত চালু হওয়ায় যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। সঙ্গে বেড়েছে এই মেশিনগুলোয় সমস্যাও।
এবিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ‘যাত্রীদের থেকেও একাধিক রং কমান্ড দেওয়া হয়। তারা মেশিনে ভাংতি টাকা প্রবেশ করাতে গিয়ে অনেক সময় নেন। আবার পুরানো নোট বারবার প্রবেশ করানোর কারণেও মেশিনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে থেমে যায়।’
মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ‘অনেক সময় ভেতরে জমা রাখা ৫০০টি কার্ড (টিকেট) শেষ হয়ে যায়। তখন নতুন কার্ডের ট্রে বসালে আবার টিকেট কাটা যায়।
মেট্রোরেলে একক যাত্রার টিকেট কাটার জন্য প্রত্যেক স্টেশনেই চারটি করে স্বয়ংক্রিয় ভেন্ডর মেশিন রয়েছে। যাত্রীরা এগুলোতে টাকা ঢুকিয়ে নিজেই টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন। কিন্তু কর্পক্ষ কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।