উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বহিরাগত দিয়ে চলছে অস্ত্রোপচার 

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বহিরাগত ফার্মাসিস্ট দিয়ে করানো হচ্ছে অস্ত্রোপচার। এতে রোগীদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। প্রতিনিয়ত কর্তব্যরত ডাক্তাররা নিজে অস্ত্রোপচার না করে বাইরের ফার্মাসিস্ট দিয়ে এসব কাজ করাচ্ছেন। এতে যে কোন সময় রোগীদের সঙ্গে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকেন স্বজনরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এক শিশুর পায়ে সেলাই করেন বহিরাগত ফার্মাসিস্ট তারেক। এছাড়াও রোগীদের ইনজেকশন দেওয়া থেকে থেকে শুরু করে ছোট-খাটো সকল কাজ করতে দেখা গেছে তাকে। তাকে এ কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন কর্তব্যরত ডাক্তার ডা. ফাতেমাতুজ যাহরা। যার নির্দেশে তিনি এসব কাজ করেন।
  
এ বিষয়ে তারেক দেশ রূপান্তরকে বলেন, মেডাম বলেছে ছোটখাটো কাটা-ছেঁড়া সেলাইয়ের কাজ করতে। আমি হাসপাতালের কোন দায়িত্বে নেই, তবে আমার ফার্মাসিস্ট কোর্স করা আছে। সার্জারির বিষয়ে অভিজ্ঞতা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সার্জারি বিষয়ে অ্যাকাডেমিক কোন সার্টিফিকেট নেয়। ডিউটিরত মেডিকেল ডাক্তারের নির্দেশে আমি হাসপাতালে সেলাইসহ আনুষঙ্গিক কাজ করি।’ 

কর্তব্যরত ডাক্তার ডা. ফাতেমাতুজ যাহরা জানান, আমি তাকে শিশুটির পায়ে সেলাই করার অনুমতি দেই। তারেক কেন অস্ত্রোপচারের কাজ করছেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রোগীদের বাহিরে রেখে স্বামী-সন্তান নিয়ে ডিউটি রুমে আড্ডা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের প্রতিটি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে একজন করে বহিরাগত লোক দেখা যায়। তাদের দিয়েই ডাক্তাররা ছোটখাটো অস্ত্রোপচার করান। এমনকি রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে ডাক্তারদের পরিচিত ক্লিনিকে পাঠানোর কাজ করেন। এভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রতিনিয়ত  অনিয়ম হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তাহের জানান, জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ডাক্তার ছাড়া কাটা-ছেঁড়া, সেলাই, ইনজকেশন পুশ, ড্রেসিং অন্য কেউ করতে পারবে না। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।