তিন মাসে ১৪৩ রোহিঙ্গার হাতে বাংলাদেশের পাসপোর্ট

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা নানা বয়সী রোহিঙ্গাদের ভুয়া বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম সনদ ও পাসপোর্ট বানিয়ে দেওয়া একটি চক্রের ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, গত শুক্রবার ও রবিবার কক্সবাজার, টাঙ্গাইল এবং ঢাকার আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী ও বাড্ডায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এই চক্রে রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি দালাল এবং আনসার সদস্যও রয়েছেন, যারা কয়েক দলে ভাগ হয়ে লাখ টাকার বিনিময়ে এই কাজ করতেন।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার দালালদের মোবাইলে শত শত পাসপোর্ট করে দেওয়ার প্রাসঙ্গিক সফট ডকুমেন্টস, ডেলিভারি স্লিপ পাওয়া গেছে। যার মধ্যে গত তিন মাসে রোহিঙ্গাদের জন্য করা ১৪৩টি পাসপোর্ট ইতোমধ্যে তারা সরবরাহ করেছে। ২০১৯ সাল থেকে চক্রটি রোহিঙ্গাদের, বাংলাদেশি দাগি অপরাধীদের ভিন্ন নাম ও ঠিকানায় হাজার হাজার পাসপোর্ট করে দিয়েছে।

হারুন অর রশীদ জানান, গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ১৭টি পাসপোর্ট, ১৩টি এনআইডি, ৫টি কম্পিউটার, ৩টি প্রিন্টার, ২৪টি মোবাইল ফোন এবং পাসপোর্ট তৈরির দলিলপত্র জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ২৩ জন ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে।

তিনি বলেন, চক্রটির একটি দল কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি থেকে রোহিঙ্গাদের ঢাকায় নিয়ে আসে। আরেকটি দল তাদের জন্য বাংলাদেশের জন্ম সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র বানিয়ে দেয়। আরেকটি দল ঢাকাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আনসার সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাংকে এক্সপ্রেস, সুপার এক্সপ্রেস পদ্ধতিতে টাকা জমা দেওয়া, বায়োমেট্রিক্স করা ও ছবি তোলার ব্যবস্থা করে দেয়।

চক্রটি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রংপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও বরিশাল জেলার ঠিকানা ব্যবহার করে জন্ম সনদ ও এনআইডি বানিয়ে তার ভিত্তিতে পাসপোর্ট বানিয়ে দিত বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

গ্রেপ্তার রোহিঙ্গারা হলেন–উম্মে ছলিমা ওরফে ছমিরা, মরিজান ও রশিদুল। রোহিঙ্গা দালাল আইয়ুব আলী ও মোস্তাকিম। আনসার সদস্য দুজন হলেন– জামসেদুল ইসলাম ও মো. রায়হান। দেশি দালালরা হলেন রাজু শেখ, শাওন হোসেন ওরফে নিলয়, ফিরোজ হোসেন, তুষার মিয়া।

আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর, উত্তরাতে গিয়ে কম্পিউটারের দোকান খুলে এ কাজে জড়িত গ্রেপ্তার অপর দালালরা হলেন শাহজাহান শেখ, শরিফুল আলম, জোবায়ের মোল্লা, শিমুল শেখ, আহমেদ হোসেন, মাসুদ আলম, আব্দুল আলিম, মাসুদ রানা, ফজলে রাব্বি শাওন, রজব কুমার দাস দীপ্ত, আল-আমিন, মো. সোহাগ।