সেই হাসপাতালে নিতে বারবার কল দেওয়া হয় আহনাফের বাবাকে

রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার জে এস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেক আপ সেন্টারে খৎনা করাতে গিয়ে গত মঙ্গলবার মারা যায় দশ বছরের শিশু আহনাফ তাহমিন আয়মান। আহনাফের বাবা ফখরুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার স্ত্রীর এক পরিচিত জনের মাধ্যমে জে এস হাসপাতালের পরিচয় পাই এবং সেখানে আমার ছেলের খৎনা করানোর সিদ্ধান্ত নেই।

ফখরুল আলম বলেন, এরপর সোমবার হাসপাতালে গিয়ে আমি কথা বলে আসি। তারা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আমার ছেলেকে নিয়ে যেতে বলেন। মঙ্গলবার খৎনা করাতে যেতে আমাদের দেরি হচ্ছিল। সন্ধ্যার পর থেকে তারা আমাকে বারবার কল দিতে থাকে। এক পর্যায়ে হাসপাতাল থেকে বলা হয় আপনারা বলছিলেন বলে আমরা ডাক্তার এনে বসিয়ে রেখেছি। এখন কি আমরা ডাক্তারকে ফেরত পাঠাব, এই বলে দ্রুত যেতে অনুরোধ জানায়।

তিনি বলেন, সেদিন যদি আমি আরেকটু সচেতন হতাম, এটা চিন্তা করতাম যে, একটা হাসপাতাল থেকে রোগীকে নিয়ে যেতে বারবার কেনো ফোন দেওয়া হবে, তাহলে হয়তোবা আমার আহনাফকে হারাতে হতো না।

জে এস হাসপাতালে ডা. এস এম মুক্তাদিরের তত্ত্বাবধানে আয়ানের খতনা হয়। তার সহযোগী হিসেবে ছিলেন ডা. মাহবুব ও ডা. ইশতিয়াক আজাদ।

মুক্তাদির নিজেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অর্থোপেডিক সার্জন ও মাহবুব একই হাসপাতালের অবেদনবিদ্যা (অ্যানেস্থেসিওলজি) বিভাগের চিকিৎসক এবং ইশতিয়াক ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক বলে আয়ানের বাবা ফখরুল আলমের কাছে পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে বিএসএমএমইউ ও ঢামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে অভিযুক্ত ৩ জন তাদের এই দুই হাসপাতালের চিকিৎসক নয়।

আহনাফের মৃত্যুর পর জানা যায় ওই জে এস এর ডায়াগনস্টিক সেন্টার হিসেবে নিবন্ধন থাকলেও হাসপাতাল হিসেবে নিবন্ধন ছিলো না। অনিবন্ধিত হাসপাতালে ভুয়া ডাক্তারের হাতে আহনাফের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি বাবা ফখরুল আলমের।