গাছ থেকে পড়া ঝুমার চোখ অলিম্পিকে

২০১৮ সালেও সুস্থ স্বাভাবিক ছিলেন ঝুমা আক্তার। একটা দুর্ঘটনায় তার জীবনে নেমে আসে অমানিষার অন্ধকার। লিচু গাছ থেকে পিছলে পড়ে স্বাভাবিক চলনশক্তি হারিয়ে ফেলেন নরসিংদির মেয়ে ঝুমা। তবে তিনি হার মানেননি। হুইলচেয়ার আজীবনের সঙ্গী হয়েছে ঠিক, তবে স্বপ্ন তাতে বাধ সাধেনি। ঝুমা স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের হয়ে আগামী প্যারিস প্যারালিম্পিক গেমসে সরাসরি খেলার। সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে ২৯ ফেব্রুয়ারি আরও তিন প্যারা আরচারের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত যাচ্ছেন তিনি। আমিরাতের দুবাইয়ে ২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ বসতে যাচ্ছে অস্টম ফায়া ইন্টারন্যাশনাল প্যারা আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপ। এই আসরটি আবার প্যারিস প্যারালিম্পিক গেমসের কোটা প্লেস অর্জনের সর্বশেষ মঞ্চ।
মূল অলিম্পিক গেমসে কেবল রিকার্ভ আরচারদের সুযোগ থাকে খেলার। বাংলাদেশ থেকে একমাত্র আরচার রোমান সানা ২০২০ টোকিও অলিম্পিক গেমসে (যে আসর করোনার কারণে ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত হয়) সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জণ করেছিলেন। এ বছর প্যারিসে হতে যাওয়া অলিম্পকে অবশ্য কোন আরচার সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জণ করতে পারেননি। অলিম্পকের পরপরই প্যারিসে অনুষ্ঠিত হবে প্যারালিম্পিক। সেই আসরে খেলার স্বপ্ন দেখছেন ঝুমা। প্যারালিম্পিকে রিকার্ভ ও কম্পাউন্ড দুই ইভেন্টেই খেলার সুযোগ থাকে। ঝুমা তাই স্বপ্নটা নিয়ে যেতে চাইছেন প্যারিস পর্যন্ত। সেটা সম্ভব দাবী করতেই পারেন ঝুমা। কারণ কিছুদিন আগে স্বাভাবিকদের সঙ্গে আরচারি টুর্নামেন্ট খেলে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন এই আরচার। নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিষীকাময় অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ঝুমা বলেন, '২০১৮ সালে লিচু গাছ থেকে পিছলে পড়ে গিয়ে স্পাইনাল কর্ডে আঘাত পাই। অনেকদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। এরপর একটু সুস্থ হয়ে আমি হুইলচেয়ার বাস্কেটবল দলে যোগ দেই। সেখানে এক কোচ আমাকে প্যারা আরচারিতে অংশ নিতে বলেন। সেই থেকে প্যারা আরচারিতে খেলছি।' বাংলাদেশ প্রথম প্যারা আরচারি গেমসে অংশ নিয়েছিল ২০২২ সালে। সেই আসরেও খেলেছেন ঝুমা। এবার স্বপ্নচারী হওয়ার কারণ সম্প্রতি উন্মুক্ত টুর্নামেন্ট সুস্থ-স্বাভাবিকদের সঙ্গে লড়াই করে তৃতীয় হওয়ায়, 'আমি বাংলাদেশে উন্মুক্ত টুর্নামেন্টে কিছুদিন আগে স্বাভাবিক আরচারদের সঙ্গে খেলে পদক জিতেছি। সেখানে আমার স্কোর ছিল ৩৪২-এর বেশি। এই স্কোরটার আর একটু উন্নতি করলে সরাসরি প্যারালিম্পিকে খেলা সম্ভব।' ভারতীয় কোচ নিশিথ দাসের নাম বাংলাদেশের আরচারি অধ্যায় শুরু থেকে জড়িয়ে আছে। আরচারির উত্থানে যেমন নিশিথের অবদান ছিল, ঠিক তেমনই প্যারা আরচারির শুরুরপর্বে আছেন তিনি। বাংলাদেশ দলের উপদেষ্টা কোন নিশিথ ঝুমাকে নিয়ে আশাবাদী, 'ভারতীয় কোচ নিশীথ দাশ ঝুমা আক্তারকে নিয়ে আশাবাদী হয়ে বলেন, ‘ঝুমার যে স্কোর তা প্যারালিম্পিকে খেলার মতো।'
আমিরাতে এই আসরে ঝুমা ছাড়াও পুরুষ রিকার্ভে খোরশেদ আলম ও আল-আমিন হোসেন এবং নারী রিকার্ভে অংশ নিবেন রুপালী আক্তার। চার আরচারের সঙ্গে দুই কোচ ভারতীয় নিশিথ দাস ও হযরত আলী যাচ্ছেন। ৫৫টি দেশের ২২৮জন আরচার অংশ নেবেন এই আসরে। প্যারা আরচারি দলের সকল ব্যায়ভার বহন করছে কেজিএন মেডিকেয়ার লিমিটেড। এ উপলক্ষ্যে সোমবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্পন্সর প্রতিষ্ঠান কেজিএন মেডিকেয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাঃ সৈয়দা তাসনীম জাহান, বাংলাদেশ প্যারা আরচারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল এবং সাধারণ সম্পাদক ফায়সাল আহসান উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।