চাঁদা না দেওয়ায় বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকে ট্রাম্পকে নিষিদ্ধের ভাবনা ওয়াডার!

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম

একবার ভাবুন তো, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক; অথচ এই দুই আসরে অতিথি হিসেবে থাকতে পারবেন না স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! অবিশ্বাস্য এই ঘটনা ঘটার খুবই ক্ষুদ্র একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও সেটা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে সন্দেহের বিস্তর অবকাশ আছে। এই নাটকীয় খবরের পেছনে আছে বিশ্ব ডোপিং বিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) এবং মার্কিন সরকারের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব, যা এখন চরম রূপ নিয়েছে।

বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, বকেয়া চাঁদা পরিশোধ না করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের ২০২৬ বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক থেকে নিষিদ্ধ করার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে ওয়াডা। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে মাদকের ব্যবহার রোধে কাজ করা সুইজারল্যান্ডভিত্তিক এই সংস্থাটির মূল আয়ের অর্ধেক আসে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) থেকে। বাকি অর্ধেক আসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের পক্ষ থেকে। যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবেই এই তহবিলে অন্যতম বড় দাতা। কিন্তু ২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ধারিত বার্ষিক চাঁদা পরিশোধ বন্ধ রেখেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ওয়াডার বকেয়া পাওনার পরিমাণ প্রায় ৭৩ লক্ষ ডলার। ওয়াডার এই উদ্যোগকে বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন না অনেকেই।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র কেন এই চাঁদা দিচ্ছে না? এর পেছনে রয়েছে দুই রাজনৈতিক শক্তি রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান। তাদের অভিযোগ, চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোর ডোপিং কেলেঙ্কারি সামলাতে ওয়াডা চরম অস্বচ্ছতা ও পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শন করেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে ২৩ জন চীনা সাঁতারু ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়া সত্ত্বেও তাদের প্যারিস অলিম্পিকে অংশ নিতে দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র সহজভাবে নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ নীতি বিষয়ক দপ্তরের (ওএনডিসিপি) পরিচালক সারা কার্টার স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতক্ষণ না ওয়াডা তাদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনবে এবং স্বাধীন নিরীক্ষকদের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা নিশ্চিত করবে, ততক্ষণ এই চাঁদা প্রদান বন্ধ থাকবে।

আগামী মঙ্গলবার ওয়াডার নির্বাহী কমিটির সভায় একটি নতুন নীতিমালা অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব করা হতে পারে। এই নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কোনো দেশ সময়মতো চাঁদা না দেয়, তবে সেই দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের অলিম্পিক, প্যারাঅলিম্পিক কিংবা বিশ্বকাপের মতো বড় আসরগুলোতে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। সভায় যদি এই সিদ্ধান্ত পাস হয়, তবে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফুটবলেও এর প্রভাব পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স কিংবা মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা নিজ দেশে আয়োজিত আসরগুলোতে সরকারি অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারবেন না।

এদিকে ওয়াডার এই প্রস্তাবকে ‘হাস্যকর’ ও ‘প্রতীকি’ বলে অভিহিত করেছেন অনেকে। ওএনডিসির সাবেক পরিচালক রাহুল গুপ্ত বলেছেন, ‘৫ কোটি ডলার বাজেটের একটি ছোট সুইস ফাউন্ডেশন কীভাবে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের প্রেসিডেন্টকে নিজ দেশের মাটিতে আয়োজিত কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়া থেকে বিরত রাখবে? তারা কি ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করবে? এটি মোটেও বাস্তবসম্মত নয়।’ তবে ওয়াডার মুখপাত্র জেমস ফিটজেরাল্ড জানিয়েছেন, ‘এই প্রস্তাবটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং সংস্থার ভবিষ্যৎ তহবিল নিশ্চিত করার জন্য।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত