ভারত থেকে আমদানি করা ভেজাল কাশির সিরাপ খেয়ে ৬৮ শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ২৩জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা দিয়েছে উজবেকিস্তানের একটি আদালত। সোমবার দেশটির রাজধানী তাসখন্দের সিটি আদালত এই রায় দিয়েছেন
এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ ও দিয়েছেন আদালত। সোমবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায় ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ডক-১ সিরাপটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান উজবেকিস্তানভিত্তিক কোম্পানি কুয়ারাম্যাক্স মেডিকেল এলএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভারতীয় নাগরিক সিং রাঘবেন্দ্র প্রতাপসহ ২৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারয়াদণ্ড দেওয়া হয়।
সবচেয়ে বেশি ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় রাঘবেন্দ্র প্রতাপকে। অভিযুক্তদের কর ফাঁকি, নিম্নমানের বা নকল ওষুধ বিক্রি, প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহার, অবহেলা, জালিয়াতি এবং ঘুষগ্রহণের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বিশেষ করে সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দীর্ঘ সাজা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সিরাপ সেবনে মারা যাওয়া ৬৮ জন শিশুর পরিবারসহ শারীরিক ক্ষতিগ্রস্ত চারজন শিশুর পরিবারকে ৮০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উজবেক আদালত। এছাড়া আরও আটজন শিশুর বাবা-মা ১৬ হাজার থেকে ৪০ হাজার ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উজবেকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতি অনুসারে, দোষী সাব্যস্ত হওয়া সাতজনের কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণের অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে উজবেকিস্তানে ম্যারিয়ন বায়োটেকের তৈরিকৃত ডক-১ কফ সিরাপ সেবনের পর শ্বাসকষ্টে ৬৮ শিশুর মৃত্যু হয়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ২০২৩ সালের শুরুতে সিরাপে ইথিলিন গ্লাইকোল নামক রাসায়নিকের অতিমাত্রায় উপস্থিতি শনাক্ত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং উজবেকিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সিরাপে ইথিলিন গ্লাইকলের অতিরিক্ত উপস্থিতি শিশুদের মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে জানায় দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া চিকিৎসার কাজে এর প্রয়োগ নিষিদ্ধ বলে দাবি করে উজবেকিস্তান প্রশাসন।
উজবেকিস্তানের পাশাপাশি গাম্বিয়া ও ইন্দোনেশিয়াতেও একই সিরাপ খেয়ে শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।