এতদিন আমরা জিপিএ ৫-এর পেছনে দৌড়াতাম, এখন ‘ত্রিভুজ’-এর পেছনে দৌড়াতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক আবদুল মজিদ সুজন। তিনি বলেছেন, এজন্য পাঁচ-ছয়জন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে।
দেশ রূপান্তরকে সুজন আরও বলেন, এখন যেহেতু শিক্ষকরাই ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করেন। এজন্য প্রাইভেটে কী পড়ালেন সেটা বিষয় নয়, শিক্ষার্থী যে প্রাইভেট পড়ে সেটাই বড় বিষয়। এছাড়া শিক্ষকরাই ক্লাসে ক্লাসে প্রকাশ্যেই প্রাইভেট পড়তে উৎসাহিত করছেন। না পড়লে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে মানসিক টর্চারও করা হয়। এখন ক্রাফট ও ড্রইং এ জোর দেওয়ায় চারুকারু শিক্ষকের কাছেও পড়তে হচ্ছে।
নতুন শিক্ষাক্রমের পর ভয়ঙ্করভাবে বেড়েছে শিক্ষকদের প্রাইভেট-কোচিং বাণিজ্য। অথচ নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পর থেকেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ষষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কোচিং-প্রাইভেট পড়তে হয় না।
অভিভাবকরা বলছেন, আগে শিক্ষার্থীরা সাধারণত ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে প্রাইভেট পড়তো বা কোচিং করতো। এর বাইরে অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে কেউ হয়তোবা আরেকটাতে প্রাইভেট পড়তো, আবার কেউ পড়তো না। শিক্ষার্থীরা সাধারণত নিজ স্কুলের শিক্ষকের বাইরে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী, কোচিং সেন্টার বা যার যার পছন্দের জায়গায় পড়তো। কিন্তু নতুন শিক্ষাক্রমে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের হাতেই বেশিরভাগ নম্বর থাকায় শিক্ষার্থীদের কমপক্ষে চার-পাঁচটি বিষয়ে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে। অনেক শিক্ষক আবার প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করছেন।
গত বছর প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হয়। এ বছর দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণি এবং অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে এই শিক্ষাক্রম চালু হয়েছে। ২০২৫ সালে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি এবং এবং দশম শ্রেণি যাতে যুক্ত হবে। আর ২০২৬ সালে যুক্ত হবে একাদশ ও ২০২৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণি। নতুন এই শিক্ষাক্রমে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত শিখনকালীন মূল্যায়ন শিক্ষকের হাতে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন